৭ অবস্থায় শরিয়তের বিধান পালনে ইসলাম জোর করে না - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৭ অবস্থায় শরিয়তের বিধান পালনে ইসলাম জোর করে না

জনবার্তা প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪ ২:৪৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামের বিধান কখনো শিথিল, কখনো কঠিন করা হয়েছে। ফিকহবিদদের মতে, সাত ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান শিথিল করা হয়েছে। অবস্থাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সফর
তিন দিন ও তিন রাত্রের পথ বা ৪৮ মাইল দূরের পথ পাড়ি দেওয়ার নিয়তে কেউ যদি বাড়ি থেকে বের হয়, তাহলে তার জন্য শরিয়ত কিছু বিধান শিথিল করেছে। যেমন—কসর তথা চার রাকাত ফরজের ক্ষেত্রে দুই রাকাত পড়া, রমজান মাসের রোজা ভঙ্গ করা, এক দিন এক রাতের বেশি সময় ধরে মোজা মাসেহ করা, কোরবানি রহিত হওয়া ইত্যাদি। শুধু শরিয়তের বিধান পালনেই শিথিলতা নয়, মুসাফিরের প্রতি আল্লাহর আরও অনেক অনুদান রয়েছে। ফরজ জাকাত, যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, নফল দান-সদকায় মুসাফিরের হক রয়েছে। (সুরা বাকারা: ২১৫; সুরা আনফাল: ৪১; সুরা তাওবা: ৬০) আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের প্রতি সদাচারেরও নির্দেশ দিয়েছেন। (সুরা নিসা: ৩৬)

২. অসুস্থতা
অসুস্থতার ফলে জীবনের আশঙ্কা দেখা দিলে অথবা কোনো অঙ্গ ক্ষতি হওয়ার বা অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার কিংবা বিলম্বে সুস্থ হওয়ার ভয় হলে তখন তায়াম্মুম করা বৈধ। অনুরূপ অসুস্থতার কারণে জামায়াত বর্জন করা জায়েজ। তবে, একাকী নামাজ পড়তে হবে। রাসুল (স.) বলেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তাহলে বসে নামাজ পড়ো, যদি তাও না পারো, তাহলে ইশারা করে নামাজ আদায় করো। (বুখারি: ১০৫০)

৩. বাধ্য হওয়া
কেউ যদি বাধ্য হয়ে মুখে কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে, কিন্তু অন্তরে ঈমান দৃঢ় থাকে, তাহলে কুফরি বাক্য উচ্চারণের কারণে সে কাফির হবে না। কিন্তু এ অবস্থায়ও যদি কেউ মন থেকে কুফরি কথা বলে তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। (আসসারিমুল মাসলুল: ৫২৪)

৪. ভুলে যাওয়া
কেউ যদি রোজার দিনে ভুলক্রমে পানাহার করে, তাহলে তার রোজা ভঙ্গ হবে না। রাসুল (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল; সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে। কারণ, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১/২০২)

৫. অজ্ঞতা
যে ব্যক্তি অজ্ঞ তথা যার ইসলামের ব্যাপারে জ্ঞান নেই, তার জন্য শরিয়তের অনেক বিধি-বিধান শিথিল করা হয়েছে। তার ভুল ত্রুটি ইসলামে ক্ষমাযোগ্য। তবে, অজ্ঞতা পরিষ্কার হয়ে গেলে অজ্ঞতাবশত করা গুনাহের জন্য ইস্তেগফার করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, পরে তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তাদের জন্য তোমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা নাহল: ১১৯)

৬. অক্ষমতা ও কষ্টকর অবস্থা
অক্ষম ও কষ্টকর অবস্থায় শরিয়তের বিধান শিথিল করা হয়েছে। যেমন—অপবিত্র জামা নিয়ে নামাজ আদায় করা। যদি পবিত্র জামা না থাকে এবং জামার এক-চতুর্থাংশের কম নাপাকি থাকে অথবা এক দিরহাম পরিমাণ নাজাসাতে গলিজা (পেশাব, পায়খানা ইত্যাদি) থাকে তাহলে ওই জামা নিয়ে নামাজ পড়া জায়েজ। অতিবৃদ্ধের জন্য রোজার পরিবর্তে ফিদিয়া প্রদান করা জায়েজ। আবার, কেউ রোজা রাখতে অক্ষম হয় এবং পুরো ফিদিয়া আদায়েও সামর্থ্য না থাকে, তাহলে যতটুকু সম্ভব আদায় করবে। তাও সম্ভব না হলে আদায় করতে হবে না এবং উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তেগফার করবে। তবে পরবর্তী সময়ে কখনও সামর্থ্য হলে পেছনের ফিদয়া আদায় করে দিতে হবে। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২৮; আননাহরুল ফায়েক: ২/৩২; আলবাহরুর রায়েক: ২/২৮৬)

৭. স্বাস্থ্যগত ত্রুটি
কারো স্বাস্থ্যগত ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলে তার ওপর ইসলামের বিধান আরোপিত হয় না। যেমন—নাবালেগ, মাতাল প্রমুখের ওপর ইসলামের বিধান আরোপিত হয় না। মহানবী (স.) বলেছেন, তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত, তাদের কোনো কোনো পাপ লেখা হয় না—ক. ঘুমন্ত ব্যক্তি—জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত, খ. মাতাল—সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এবং গ. শিশু—প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত। (তিরমিজি: ১৩৪৩)