মৃত্যুরও মৃত্যু হবে: চিরস্থায়ী জীবন নিয়ে হাদিসের চমকপ্রদ বর্ণনা - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৃত্যুরও মৃত্যু হবে: চিরস্থায়ী জীবন নিয়ে হাদিসের চমকপ্রদ বর্ণনা

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ১:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। পরকালই মানুষের চিরস্থায়ী আবাস। কেয়ামত, হাশর ও বিচার ফয়সালার পর জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এরপর এমন এক জীবন শুরু হবে, যেখানে মৃত্যু নামক কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।

মৃত্যুকে জবাই করার হাদিস
রাসুলুল্লাহ (স.) বর্ণনা করেন, ‘কেয়ামাত দিবসে মৃত্যুকে একটি ধূসর রঙের মেষের আকারে আনা হবে। তখন একজন সম্বোধনকারী ডাক দিয়ে বলবেন, হে জান্নাতবাসী! তখন তাঁরা ঘাড়-মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। সম্বোধনকারী বলবেন, তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবেন হ্যাঁ, এ হলো মৃত্যু। কেননা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর সম্বোধনকারী আবার ডেকে বলবেন, হে জাহান্নামবাসী! জাহান্নামীরা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে, তখন সম্বোধনকারী বলবেন- তোমরা কি একে চেনো? তারা বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। কেননা তারা সকলেই তাকে দেখেছে। তারপর (সেটিকে) জবাই করা হবে। আর ঘোষক বলবেন, হে জান্নাতবাসী! স্থায়ীভাবে (এখানে) থাক। তোমাদের আর কোনো মৃত্যু নেই। আর হে জাহান্নামবাসী! চিরদিন (এখানে) থাক। তোমাদের আর মৃত্যু নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৪৭৩০)

কোরআনের সতর্কবার্তা
রাসুল (স.) এই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সুরা মরিয়মের ৩৯ নং আয়াত তেলাওয়াত করলেন- ‘আপনি তাদেরকে সাবধান করে দিন অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফয়সালা করা হবে। অথচ তারা গাফিলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।’ এ সময় রাসুলুল্লাহ (স.) স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করলেন।’ (সহিহ মুসলিম: ২৮৪৯)

চিরস্থায়ী জীবনের বাস্তবতা
জান্নাতের জীবন হবে চিরস্থায়ী সুখ-শান্তির। সেখানে কোনো ক্লান্তি, রোগ-ব্যথা বা মনোকষ্ট থাকবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা কিছু তোমাদের মন চাইবে এবং সেখানে তোমাদের জন্য থাকবে যা তোমরা দাবী করবে। (সুরা ফুসসিলাত: ৩১) অন্যদিকে জাহান্নামের শাস্তিও হবে চিরস্থায়ী। সেখানে মৃত্যু কামনা করলেও মৃত্যু আসবে না- ‘তাদের প্রতি এমন কোনো ফয়সালা দেয়া হবে না যে তারা মারা যাবে এবং তাদের থেকে জাহান্নামের আজাবও লাঘব করা হবে না।’ (সুরা ফাতির: ৩৬)

ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘মৃত্যুকে জবাই করার অর্থ হলো- ‘মৃত্যুর অস্তিত্বের চিরতরে সমাপ্তি।’ ইবনুল কাইয়িম (রহ.) ব্যাখ্যা করেন, ‘এটি আল্লাহর কুদরতের একটি নমুনা, যেখানে মৃত্যুকে একটি স্পষ্ট রূপ দিয়ে বান্দাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

এই হাদিস থেকে আমরা শিখতে পারি যে, দুনিয়া শুধু পরীক্ষার স্থান। আসল জীবন তো আখেরাতের জীবন। রাসুল (স.) বলেছেন- ‘বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মৃত্যুপরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে।’ (তিরমিজি: ২৪৫৯) তাই প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে সদ্ব্যবহার করে চিরস্থায়ী জান্নাতের যোগ্য বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।