রেলওয়ে শ্রমিকদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত স্থগিত - জনবার্তা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেলওয়ে শ্রমিকদের কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত স্থগিত

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ২৭, ২০২৩ ১১:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান ছাড়াও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকে টানা কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটি আর থাকল না।

রোববার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে আমাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) এ বিষয়ে সেখানে বৈঠক হবে। তাই উচ্চ পর্যায়ের আশ্বাসে আমরা আগামী ১০ কার্যদিবস আমাদের কর্মবিরতি স্থগিত করেছি।

উল্লেখ্য, দফায় দফায় আন্দোলন করেও ‘মাইলেজ সুবিধা’ পুনর্বহালের দাবি আদায়ে সফল হতে পারেননি রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলসচিব এমনকি রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও ইতিবাচক কোনো ফল পাননি তারা। ফলে মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান ছাড়াও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় এবার টানা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি। রোববার মধ্যরাত ১২টা থেকেই এই কর্মবিরতি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন রানিং স্টাফ (চালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট চেকার) ট্রেনে দায়িত্ব পালন শেষে তার নিয়োগপ্রাপ্ত এলাকায় (হেডকোয়ার্টার) হলে ১২ ঘণ্টা এবং এলাকার বাইরে (আউটার স্টেশন) হলে ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। রেলওয়ের স্বার্থে কোনো রানিং স্টাফকে তার বিশ্রামের সময়েও কাজে যুক্ত করলে বাড়তি ভাতা-সুবিধা দেওয়া হয়। যা রেলওয়েতে ‘মাইলেজ’ সুবিধা হিসেবে পরিচিত।

তবে ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় মাইলেজ সুবিধা সীমিত করতে রেল মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বাদ দিয়ে তা সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের সমপরিমাণ করার কথা জানানো হয়। এছাড়া বেসামরিক কর্মচারী হিসেবে রানিং স্টাফদের পেনশন ও আনুতোষিক ভাতায় মূল বেতনের সঙ্গে পাওয়া কোনো ভাতা যোগ করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এর পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রানিং স্টাফরা। মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তারা। এ নিয়ে দফায় দফায় আন্দোলন-কর্মবিরতিও পালন করেন। তবে বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন তারা।

কর্মচারী সমিতি জানিয়েছে, প্রায় ১৬০ বছর ধরে রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে পেনশন নির্ধারণের বিধান চলমান ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে রেলওয়ের কোডিফাইড রুল অমান্য করে রানিং স্টাফদের পার্ট অব পে হিসেবে গণ্য মাইলেজ, যা যুগ যুগ ধরে বেতন খাতের অংশ ছিল, সেখান থেকে সরিয়ে টিএ খাতে নেওয়ার ফলে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানায়। এ নিয়ে পরবর্তীকালে রানিং স্টাফরা রেলমন্ত্রী, রেল সচিবসহ রেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক করে প্রাপ্যতার বিষয়ে আইনি ভিত্তি ও যুক্তি তুলে ধরেন। পরে রেল কর্তৃপক্ষ রানিং স্টাফদের দাবির যৌক্তিকতা অনুধাবন করে অর্থ মন্ত্রণালয় বারবার চিঠি দেন এবং প্রাপ্যতার বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করেন।

পরবর্তীকালে ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর রেলমন্ত্রী কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে এই সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। যার ধারাবাহিকতায় গত ১১ জুন রেলওয়ের মহাপরিচালক স্পষ্ট করে রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু গত ১৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আবারও আপত্তি জানায়। ফলে রানিং স্টাফদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।