থানা থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ আটক ৮ - জনবার্তা
ঢাকা, রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থানা থেকে আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ আটক ৮

জনবার্তা প্রতিবেদন
এপ্রিল ৭, ২০২৪ ১:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশকে মারপিট করে আসামি ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় উপজেলার মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামানসহ ৮জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুরুজ্জামানের বাংলোবাড়ি এবং মাঝিড়াস্থ তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৬ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানা চত্বরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদে এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযানে চালিয়ে আড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিঠুন মিয়াকে ২টি বার্মিজ চাকুসহ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসেন।

মিঠুন মিয়ার নামে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার চলমান রয়েছে। মিঠুন মিয়াকে থানায় নিয়ে আসার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঝিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে থানায় প্রবেশ করে আসামি মিঠুন মিয়াকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

এ সময় থানার ওসি শহিদুল ইসলামকে ধাক্কা দেয় এবং অপর পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারপিট করে পালিয়ে যায়। মারপিটে অন্তত ১০জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে এসআই আনিছুর রহমান, কন্সটেবল ইসমাইল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমিন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

এর কিছু পরে নুরুজ্জামান তার বাহিনীর আরও সদস্যকে সংঘবদ্ধ করে আবারও থানায় আক্রমণ করতে মাঝিড়াস্থ তার পুরাতন বাড়ির সামনে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে একত্রিত হয়েছে এমন খবর পেয়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুরুজ্জামানসহ ৮ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, জমি দখল, সরকারি কাজে বাঁধাসহ ৮-১০টি মামলা রয়েছে। এক বছর আগে হাট-বাজার ইজারা টেন্ডারের সময় উপজেলা অডিটোরিয়ামে সবার সামনে থেকে কৌশলে দরপত্র চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নুরুজ্জামান চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা নুরুজ্জামান সন্ত্রাসীদের গড ফাদার। তার বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। এই বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মাদক, ইট বালু মাটি সিন্ডিকেট, জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ভয়ে নিজ দলীয় নেতাকর্মীসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। এমন কি গণমাধ্যমকর্মীরা পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে সন্ত্রাসী স্টাইলে থানায় প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামি ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় থানায় হামলা মারপিট, আগ্নেয়াস্ত্রসহ একাধিক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সন্ত্রাসী নিধনে অভিযান চলমান থাকবে।