অভাবের কারণে বিয়ে না করলে কি গুনাহ হবে? - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভাবের কারণে বিয়ে না করলে কি গুনাহ হবে?

ধর্ম ডেস্ক
আগস্ট ৩, ২০২৩ ১:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিয়ে আল্লাহপ্রদত্ত বিশেষ নেয়ামত এবং রাসুলুল্লাহ (স.)-এর গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এছাড়াও সুশৃঙ্খল ও পবিত্র জীবনের জন্য বিয়ে একটি অনিবার্য প্রয়োজন। সাধারণ অবস্থায় বিয়ে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলেও কখনও তা জরুরি হয়ে যায়। অবশ্যই গুনাহে জড়িয়ে যাবেন—এমন আশঙ্কা হলে গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য বিয়ে করা জরুরি।

সক্ষমতা থাকলে দ্রুত বিয়ে করার উৎসাহ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন—‘হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিবাহ করে নেয়। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (বুখারি: ৫০৬৬; মুসলিম: ১৪০০)

কিন্তু দারিদ্রতার কারণে কিংবা সাময়িক অভাবের কারণে মানুষ বিয়ে করতে দেরি করে। এ অবস্থায় ইসলাম কী নির্দেশ দেয়? অভাবের কারণে বিয়ে না করলে কি গুনাহ হবে? অভাবের কারণে বিয়ে, দারিদ্রতার কারণে বিয়ে

এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য হলো—অভাবের কারণ বিয়ে না করলে গুনাহ হবে না, যদি না গুনাহে জড়িয়ে পড়েন। যদি না চরিত্র হেফাজত করার ব্যাপারে প্রবল আত্মবিশ্বাস থাকে। এ অবস্থায় স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত আপনি বিলম্ব করতে পারেন। একইসঙ্গে উপার্জনের দিকেও মনোনিবেশ করবেন, যেন অবিলম্বে নবীজির গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত পালন করা সহজ হয়। এরপর বিয়ে না করা পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করবেন। প্রয়োজনে নফল রোজার মাধ্যমে যৌন-আকাঙ্ক্ষাকে সংযত করবেন।

কিন্তু যদি বিয়ে না করলে চরিত্রকে হেফাজত করা যাবে না—এমন আশঙ্কা থাকে, একইসঙ্গে পাত্রীপক্ষও রাজী থাকে, তাহলে দারিদ্রতার অজুহাতে বিলম্ব করা মুমিনের কাজ নয়। কারণ, গুনাহের পথ বন্ধ করাই মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও বিয়ের উদ্দেশ্যই যদি হয় চরিত্রের হেফাজত করা; তাহলে এ বিয়ে সম্পাদনের পর মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে সচ্ছলতা দান করবেন বলে ওয়াদা রয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ দাও, এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস-দাসীদেরও, তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন, আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।’ (সুরা নুর: ৩২)
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আবু বকর (রা.) তরুণ-তরুণীদের উৎসাহ দিয়ে বলতেন, ‘তোমরা বিয়ে করে আল্লাহর নির্দেশ পালন করো। তিনি তোমাদের দেওয়া অঙ্গীকারও পালন করবেন।’ (তাফসিরে ইবনে আবি হাতেম: ৮/২৫৮২)

সাহাবিরা এভাবেই তরুণ-তরুণীদের বিয়ে করার জন্য উৎসাহ যোগাতেন। এমনকি দরিদ্র তরুণদের বলতেন স্বাবলম্বী হতে চাইলে বিয়ে করা উচিত। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) বলতেন, ‘তোমরা বিয়ের মাধ্যমে প্রাচুর্যের অনুসন্ধান করো।’ (জামিউত তাবিল: ১৭/২৭৫)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা মহান আল্লাহর কর্তব্য। প্রথমজন হলেন আল্লাহর পথে জিহাদ পালনকারী। অতঃপর মুক্তিপণ আদায়ে কাজ করা চুক্তিবদ্ধ দাস এবং পবিত্র জীবনের লক্ষ্যে বিবাহকারী।’ (তিরমিজি: ১৬৫৫)

যারা চরিত্র হেফাজতের জন্য বিয়ে করতে চায়, তাদের পাশে থাকা অভিভাবকের দায়িত্ব, আত্মীয় স্বজনের দায়িত্ব। এমন পাড়া-প্রতিবেশীর দায়িত্ব হওয়া উচিত এবং তার জন্য দোয়া করা উচিত।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, যখন কোনো লোক বিয়ে করত, তখন তার জন্য রাসুলুল্লাহ (স.) এই দোয়া করতেন- بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ উচ্চারণ: ‘বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা ও ঝামাআ বায়নাকুমা ফি খাইরিন।’ অর্থ: ‘আল্লাহ তাআলা তোমার জীবন বরকতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন।’ (তিরমিজি: ১০৯১)

আল্লাহ তাআলা সব মুসলিম তরুণ-তরুণীকে চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।