ইসলামে মুয়াজ্জিনের মর্যাদা ঈর্ষণীয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের মাথা সবার থেকে উঁচু থাকবে।’ (মুসলিম: ৩৮৭) অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘জ্বিন ও মানুষসহ যারাই মুয়াজ্জিনের আওয়াজ শোনে তারা সবাই কেয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।’ (বুখারি: ৬০৯)
আজানের বিনিময়ে জান্নাত লাভের প্রতিশ্রুতি এসেছে হাদিস শরিফে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ১২ বছর আজান দেয়, তার জন্য জান্নাত নির্ধারিত হয়ে যায় এবং তার প্রত্যেক আজানের বিনিময়ে ৬০ নেকি এবং ইকামতের বিনিময়ে ৩০ নেকি অতিরিক্ত লেখা হয়। (ইবন মাজাহ: ৬০০) সাত বছর আজান দিলেও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। (তিরমিজি: ২০৬, ইবনে মাজাহ: ৭২৭)
মুয়াজ্জিনের এত মর্যাদা নিয়ে সাহাবিদের মধ্যে আলোচনা চলত। কীভাবে মুয়াজ্জিনের মতো উঁচু মর্যাদা লাভ করা যায়, তা নিয়ে চিন্তা ছিল তাঁদের। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! মুয়াজ্জিন তো আমাদের উপর মর্যাদার অধিকারী হয়ে যাচ্ছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, মুয়াজ্জিনরা যেরুপ বলে থাকে তোমরাও সেরুপ বলবে। অতঃপর আজান শেষ হলে (আল্লাহর নিকট) দোয়া করবে। তখন তোমাকে তা-ই দেয়া হবে (অর্থাৎ তোমার দোয়া কবুল হবে)। (সুনানে আবু দাউদ: ৫২৪)
উল্লেখিত হাদিস অনুযায়ী, যারা আজান দেয় না, তারা চাইলে মুয়াজ্জিনের সমান ফজিলত অর্জন করতে পারবে। এক্ষেত্রে করণীয় হলো- আজানের জবাব দেওয়া। আল্লাহ তাআলা আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
