দুর্গাপূজা ঘিরে এক সপ্তাহে ছড়িয়েছে যে ১০ ভুল তথ্য ও গুজব - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গাপূজা ঘিরে এক সপ্তাহে ছড়িয়েছে যে ১০ ভুল তথ্য ও গুজব

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৩, ২০২৪ ২:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এবার বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার গত সপ্তাহে (৬ থেকে ১২ অক্টোবর) ফ্যাক্টচেকিং কার্যক্রমে পূজাকে কেন্দ্র করে ১০টি গুজব ও ভুল তথ্যের সন্ধান পেয়েছে। এর মধ্যে আগের ঘটনাকে এবারের বলে ছড়ানো হয়েছে। আবার পাশের দেশ ভারতে সংঘটিত ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে প্রচার করা হয়েছে।

দুর্গাপূজা ঘিরে অপতথ্যের প্রবাহ নিয়ে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মাবলাম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা চলছে। পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই কমবেশি সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার থেকে শুরু করে অপতথ্য, ভুল তথ্য এবং সর্বোপরি গুজব প্রচারের হার বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়৷ চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি৷ গেল সপ্তাহে দুর্গাপূজা সম্পর্কিত ১০টি ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

বরিশালে প্রতিমা ভাঙচুরের পর ব্যানারের মাধ্যমে পূজা উদযাপনের তথ্যটি গুজব, প্রতিমার সামনে ইসলামিক বাণী প্রচারের ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় ভারতের, ভারতের পূজামণ্ডপে বাগবিতণ্ডার ভিডিও বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার, পূজামণ্ডপের সামনে মোনাজাতের সম্পাদিত ছবি দিয়ে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার, দুর্গাপূজার মূর্তি ভাঙচুরের সাম্প্রতিক সময়ের ছবি দাবিতে পুরোনো ছবি প্রচার, দুর্গাপূজার মঞ্চে সংগীত পরিবেশনের এই ভিডিওগুলো ভারতের, ঢাকার দোহারে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়, এটি ২০২৩ সালের। এছাড়াও নরসিংদীতে পূজামণ্ডপের প্যান্ডেলের তেরপাল কেটে ফেলার গুজব, ২০২৩ সালে ফরিদপুরে মন্দির ভাঙচুরে হিন্দু যুবক গ্রেফতারের ঘটনা সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এছাড়াও আগের সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ উপহার (বিনামূল্যে) হিসেবে নয়, রফতানি পণ্য হিসেবেই যেত বলে অনুসন্ধানে পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনা প্রধানের মধ্যে দ্বন্দ্বের দাবি ঘিরে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে রিউমর স্ক্যানার।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধানের দ্বন্দ্বের দাবি ঘিরে গত ৮ অক্টোবর রাতভর উত্তাল ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। কথিত এই দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে সেদিন রাতে অন্তত আটটি গুজব প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার।

এছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ড. ইউনূসের পদত্যাগের পিটিশনের নামে ফিশিং লিঙ্ক প্রচার হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের দাবিতে ফেসবুকে একটি পিটিশনের লিঙ্কসহ পোস্ট প্রচার করা হচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, পিটিশনটি ভুয়া এবং লিঙ্কটি ক্ষতিকর। তাছাড়া, এটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ক্ষতিও হতে পারে।

এদিকে টাইম ম্যাগাজিনের ভুয়া সূত্রে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ৩২০৪ জন পুলিশ নিহতের গুজব ছড়ানো হয়েছে গত সপ্তাহে। ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের দ্বারা ৩২০৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন শীর্ষক একটি দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন টাইম এর বরাতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এমন কোনো তথ্য ‘টাইম’ প্রকাশ করেনি।

তবে গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপে ইসলামি গানের ভিডিওটি কেউ কেউ এডিটেড বলে প্রচারণা চালালেও এটি আসল বলে জানিয়েছে রিউমর স্ক্যানার।