দেশের মানুষের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশের মানুষের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

জনবার্তা প্রতিনিধি
ডিসেম্বর ২২, ২০২২ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের শুনতে হয় যে আওয়ামী লীগ সরকার দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে! এর আগে ১০০টি সেতু আমরা উদ্বোধন করলাম, আর এখন ১০০টি মহাসড়ক নির্মাণ বা উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করলাম। বাংলাদেশের মানুষ এরপরও বলে আওয়ামী লীগ সরকার এসে দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে, কিছুই নাকি করে নাই। তো দেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করবে কেন, সেটাই আমার প্রশ্ন।’

গতকাল বুধবার সকালে সারা দেশে ভিডিও কনফারেন্সে ১০০টি মহাসড়ক উদ্বোধন করার সময় এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দেশের ৫০টি জেলায় প্রায় দুই হাজার ২১ কিলোমিটারের ১০০টি জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ‘৭২ থেকে ‘৭৫ সালে জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সড়ক ও সেতু মেরামত এবং নির্মাণ করেছেন। এর বাইরে যারা ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল, মানে ২০০৮ পর্যন্ত ২৯ বছর বা ৩০ বছর; তারা দেশের জন্য কী করেছে বা কতটুকু উন্নতি করেছে? আর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থেকে কী করেছে? আমি আশা করি দেশবাসী অন্তত সেটা একটু বিবেচনা করে দেখবেন।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সাধারণ মানুষের উন্নয়নে। বিশ্বাস করি গণমানুষ যেন ভালো জীবনযাপন করতে পারে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, মানুষের জীবনমান উন্নত করা, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া, শিক্ষার প্রসার ঘটানো, উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করা, ভোকেশনাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, দক্ষ মানবশক্তি গড়ে তোলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানবশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছি।’

উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জ্ঞানে এবং দক্ষতায় প্রত্যেক বাঙালি যেন তৈরি হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। ক্ষমতায় এলে জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং আমরা কাজ করে যাবো। যারা বলে আওয়ামী লীগ কিছুই করেনি, ধ্বংস করেছে, তাদের আমি প্রশ্ন করি, ১০০টা মহাসড়কের নামের তালিকা আমরা বললাম। অধিকাংশ আমরা তৈরি করেছি, এখন উন্নত করে দিলাম। আরও নতুন সড়ক করে দিলাম। ১০০ সেতু একই দিনে উদ্বোধন, এটা অতীতে কেউ কখনও করতে পেরেছে কি? পারেনি। আওয়ামী লীগ পারে, এটাই প্রমাণিত সত্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সুবিধাগুলো আপনারা পেয়েছেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ এবং ২০০৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে।’

ডিজিটাল বাংলাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করে দিয়েছি, আমরা প্রাইভেট টেলিভিশন দিয়েছি, রেডিও দিয়েছি, অনলাইন সব ডিজিটাল পদ্ধতিতে এখন যোগাযোগ, (সেখানে) সত্য মিথ্যা অনেক কিছুই বলা যেতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ দেশের মানুষের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই এবং সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। বারবার ঝড়ঝাপটা এসেছে, সেটা মোকাবিলা করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

স্মার্ট বাংলাদেশের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতিটা ক্ষেত্রে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এই স্মার্ট বাংলাদেশে প্রত্যেকে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা অর্জন করবে এবং সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে, সেভাবেই আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেটা আমরা কিছু বাস্তবায়নও করছি।’

তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর অভিঘাত থেকে প্রতিনিয়ত আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এর হাত থেকে রক্ষা করে এ দেশের মানুষকে একটা উন্নত জীবন দিতে চাই। সে জন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, সেটাও প্রণয়ন করে আমরা সেটা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এটা চলমান থাকবে যদি কোনও দেশপ্রেমিক, জাতির প্রতি, জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধসম্পন্ন সরকার ক্ষমতায় থাকে; যারা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করবে, নিজের ভাগ্য না।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানি লন্ডারিং, অগ্নিসন্ত্রাসকারী অথবা গ্রেনেড হামলা করে আইভি রহমানসহ মানুষ হত্যাকারী, দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা থেকে ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে অন্যের কাছে হাত পাতা, এই ধরনের মানসিকতাসম্পন্ন কেউ যেন এ দেশে ক্ষমতায় আসতে না পারে বা আমাদের স্বাধীনতা বিশ্বাস করেনি, স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না, যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বিশ্বাস করে না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না, তারা এ দেশের কোনও উন্নতিও চায় না। স্বাধীন বাংলাদেশ তারা চায়নি।’

তিনি বলেন, ‘কাজেই সেই কথাটা সকলকে স্মরণ রাখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ কখন উন্নত জীবন পেলো, আর কখন দেশের মানুষ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতির কবলে পড়েছে। মানুষের জীবনমান সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা সকলকে স্মরণ করে তুলনা করেই জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কী চান।

এদিকে গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নোয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতি ইঞ্চি পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশের সব আবাদি জমি যদি চাষের আওতায় আনা যায়, তাহলে দেশে আর কোনো সংকট থাকবে না। আমি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বলছি- আপনারা মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরি করুন, তারা যেন নিজের খাবার নিজে উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করেন।’

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের করোনাভাইরাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে দেশের জনগণকে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আপনারও কিছু দায়িত্ব আছে এবং আপনাকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী সংকট কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি খাতে কঠোরতা দেখাতে এবং সঞ্চয় করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের স্থানীয় উন্নয়ন তহবিলের যথাযথ ব্যবহার এবং স্থানীয় প্রকল্পের মানসম্মত কাজ নিশ্চিত করতে হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে আপনাকে বরাদ্দকৃত স্থানীয় তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। কারণ উন্নয়নের দিক থেকে দেশের কোনো এলাকা এখন পিছিয়ে নেই।’

চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধিদের দেখাশোনা করার পরামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গৃহহীন ও ভূমিহীনদের বিনামূল্যে ঘর করে দেয়া হয়েছে। সারাদেশে ৩৫ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে বিনামূল্যে ঘর করে দেয়া হয়েছে। সরকারের এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে জনপ্রতিনিধিদেরও গৃহহীন ও ভূমিহীনদের একটি তালিকা তৈরি করতে হবে।’