লাগামহীন চাল, ডাল, রসুন ও ভোজ্য সয়াবিনের দাম, বিপাকে ভোক্তারা - জনবার্তা
NA 1
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লাগামহীন চাল, ডাল, রসুন ও ভোজ্য সয়াবিনের দাম, বিপাকে ভোক্তারা

জনবার্তা প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৪ ১:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন ও ভোজ্য সয়াবিনের দাম। ফলে বিপাকে রয়েছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও পণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল, জরিমানা করলে কোনো ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না এমন মন্তব্য করছেন একাধিক ভোক্তা। মাসখানেক আগে সরকার প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশনা দিলেও এখনো কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শীতকালীন সিম ৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, শুকনা মরিচ ৪৮০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, লালশাক, ঘিকাঞ্চন শাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি পেঁয়াজের মূল্য। শুক্রবার মানভেদে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাসখানেক আগে সরকার প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশনা দিলেও কতিপয় অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী বিষয়টি আমলে না নিয়ে বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা পেঁয়াজের ব্যবসা।

অসহনীয় মূল্যে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোজ্য তেল সয়াবিন। বাজারে ফ্রেশ, তীর, বসুন্ধরা সয়াবিন (৫ লিটার) বিক্রি হচ্ছে ৮৪০ টাকা দরে। অর্থ্যাৎ, ভোজ্য সয়াবিন লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬৮ টাকা দরে।

বেশ কয়েক মাস ধরে মশুর ডাল ও রসুনের দাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজরীয় এ দু’টি পণ্য। প্রতিকেজি দেশি রসুন ২৮০ টাকা, চায়না রসুন ২৪০ টাকা, মশুর ডাল (চিকন) ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত আড়াই মাস আগে রসুন বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

কমছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় চিনির মূল্য। চিনির বাজারও দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে।

কমছে না চালের দাম। দীর্ঘদিন ধরে চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতিকেজি স্বর্না মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০, ২৮ বালাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ভালোমানের ৬৮ টাকা, নি¤œমানের ৬০ টাকা, বাসমতি ৭৮ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

পবিত্র মাহে রমজান সামনে হলেও কমছে না ছোলার দাম। ব্যবসায়িদের কারসাজিতে এখনো প্রতিকেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে একশ’ টাকা দরে।

নগরীর এ্যাপ্রোচ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেটে আসা ক্রেতা শিক্ষক মোঃ হায়দার আলী বলেন, ভোজ্য সয়াবিন তেল, রসুন, চিনি ও পেঁয়াজ এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য এসব পণ্য সামগ্রী ক্রয় করা খুবই কষ্টকর। তিনি বলেন, সামনে রমজান মাস। তাই রমজানের আগে যাগে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের পাশাপাশি অন্যান্য জিনিসের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে আসা ক্রেতা মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও পণ্যের দাম খুবই চড়া। তিনি বলেন, সামনে রোজার মাস। তাই রোজার আগে বাজার দর যাতে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরেক ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ আছে। তবে বেশি দামে সবজি কিনতে হয়। ফলে খুচরা বাজারে দাম বেশি। অপর ব্যবসায়ী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিকেজি আলু ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিকেজি আলু ৪০ টাকা দরে পাইকারি কিনতে হয়েছে। আরেক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, যথেষ্ট সবজির সরবরাহ আছে। পাইকারী বাজারে দাম বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

NA 3