নগরীর পশ্চিম রূপসা পাড়ে উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনাটি ঘোলা জলে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছেন কাঠ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অভিযানে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর বহিরাগতরা হামলা চালালেও অসহায় শ্রমিকদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। অর্ধশতাব্দী ধরে ভোগদখলে থাকা শ্রমিকদেরই উক্ত জায়গাটি বন্দোবস্ত দেবার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বুধবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ সেলিম কাজী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৫ ফেব্র“য়ারি সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত রূপসা স্ট্যান্ড রোডস্থ সমিল শ্রমিকদের পূর্ব নির্ধারিত মানববন্ধন চলছিল। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রশাসনের উপর হালমা চালায় বহিরাগতরা। ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে নিরীহ স-মিল শ্রমিকদের আসামি করা হয়েছে। এতে সুদীর্ঘ ৫০ বছরের ব্যবসা ও বসবাস হতে উচ্ছেদের নীল নকশার অংশমাত্র।
প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরও বলেন, রূপসা স্ট্যান্ড রোডে প্রায় ৩৯টি ছোট-বড় সমিল রয়েছে। প্রতিটি সমিলে নারী ও পুরুষ মিলে ৩৫ থেকে ৪০জন শ্রমিক কর্মরত; সবমিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান এখানে। দেড় হাজার শ্রমিকের পরিবারের সদস্যসহ গড়ে ৫ জন করে হিসাব করলে প্রায় লক্ষাধিক এবং এই সমিলকে কেন্দ্র করে ভ্যান, ঠেলাগাড়ী, ট্রাক ও ট্রলার শ্রমিকদের সংখ্যাও প্রায়ই ৫ হাজার। এদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন করে হিসাব করলে ২৫ হাজার। এ ব্যবসার উদ্যোক্তা, মুদি দোকান, চা দোকান, হোটেল, কাঠ ব্যবসায়ীদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা হিসেবে করলে আরও ২৫/৩০ হাজার লোক। সর্বসাকুল্যে প্রায় লক্ষাধিকের উপরে মানুষের রুটি-রুজির বিষয়বস্তু।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সরকারের কাছ থেকে জমি ডিসিআর’র মাধ্যমে অর্ধশত বছর ভোগদখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও গৃহহীন শ্রমিকরা কর্মস্থলের পাশেই বসবাস করছে। প্রথমে জানা ছিল না এখানে অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের জমি আছে। জানতাম এসব জমি সরকারী ‘গ’ তফশীল বর্ণিত সম্পত্তি। ২০১৩ সাল থেকে ডিসিআর পেতে দরখাস্ত দাখিল করলেও বন্দোবস্ত দেয়া হয়নি। গত ১০ জানুয়ারি একটি উচ্ছেদ নোটিশ দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জায়গা খালি করতে নির্দেশনা দেয় নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে হঠাৎ করেই উলেখিত এলাকায় উপস্থিত হয় নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ। শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলা অবস্থায় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধের মধ্যে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বহিরাগতরা হামলা ও ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় নিরীহ দরিদ্র শ্রমিকদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি কর্তৃপক্ষ যদি সরকারের বিশেষ কোন প্রতিষ্ঠান সৌন্দর্য্য বর্ধন বা রাষ্ট্রীয় অন্য কাজে ব্যবহার করতে চায় তো করতেই পারেন। তবে কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সম্পদ আহরনে ব্যবসায়ী স্থান তৈরি করলে ভোগদখলীয় শ্রমিকরাই হকদার বন্দোবস্ত পাওয়ার। তাই প্রমানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাজারো শ্রমিক পরিবার ও ব্যবসায়ীরা।
