ভুল চিকিৎসায় সিজারিয়ান মায়ের মৃত্যুর পরে জীবন্ত শিশুকে মায়ের পেটে ঢুকিয়ে সেলাই করে একই সাথে দু‘জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের মামলায় সবুজ কুমার দাস (৩১) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড ব্যাটালিয়ন অ্যাকশন (র্যাব)।
রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি খান আসিফ তপু। এর আগে শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া এলাকা থেকে র্যাব-২ ও র্যাব-৯ এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ১৫ জানুয়ারি বরগুনার বামনা এলাকায় সন্তান সম্ভবা এক নারীর প্রসব বেদনা উঠে। পরে তাকে ৪ নম্বর ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ডৌয়াতলা সুন্দরবন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেই ক্লিনিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবুজ কুমার দাস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুত অপারেশনের পরামর্শ দেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক নিহতের স্বজনদের জানান, অপারেশন বাবদ ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে তারা রাজি হন। অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় সেই নারীকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার সবুজ কুমার দাস অন্যদের নিয়ে অপারেশন শুরু করেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও অপারেশন থিয়েটার থেকে কোনো সংবাদ আসছিল না। এতে সন্দেহের সৃষ্টি হয় স্বজনদের। তারা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে অপারেশন থিয়েটার খোলার জন্য বললেও দরজা বন্ধ রাখেন। এভাবে দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা চলে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসক সবুজ কুমার নবজাতককে বাচ্চাকে তার মৃত পেটে পুনরায় রেখে বাইর থেকে পেট সেলাই করে দেন। শেষে থিয়েটার থেকে বের হয়ে সবুজ জানান যে, রোগীর হার্টবিট বেড়ে গেছে। তাকে দ্রুত বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এরপর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রওনা হন। পথে রোগীর কোনো সাড়া না মেলায় তারা ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক রোগীকে দেখে জানান, সেই নারী দেড় থেকে দুই ঘণ্টা আগেই মারা গেছেন। এ ঘটনায় পরে বামনা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। সেই মামলায় সবুজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বরগুনা জেলার বামনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

