নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে খুলনা-৪ (রূপসা-দিঘলিয়া-তেরখাদা) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীকে আজ বৃহস্পতিবার আদালতে স্বশরীরে তলব করা হয়েছে। বুধবার খুলনা-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ তানিয়া সুলতানা লিপি এ আদেশ দেন।
আদেশে বলা হয়েছে, আপনি আব্দুস সালাম মূর্শেদী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০২ খুলনা-৪ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মাপের সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানারের পরিবর্তে অতিরিক্ত মাপের রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করেছেন। এছাড়া গত ২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার নৈহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ রূপসা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল যোগে মিছিল ও শোডাউন করে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন; যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর (ক) বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আপনার উক্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনজনিত কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে-যা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত অত্র অনুসন্ধান কমিটির গোচরীভূত হয়েছে। এ অবস্থায় আপনার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে না-মর্মে ২৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার সময় আপনাকে সিনিয়র সহকারী জজ, ডুমুরিয়া আদালত, খুলনায় স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এ বিষয়ে আব্দুস সালাম মূর্শেদীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সালাম মূর্শেদীর প্রচারণা মিছিলে অংশ নিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে নেতা-কর্মীরা আসেন। বাসগুলো কাজদিয়া স্কুল মাঠে রেখে মিছিলে অংশ নেন নেতা-কর্মীরা। বাসের গায়ে প্রার্থীর পোস্টার সাঁটানো অবস্থায় দেখা যায়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নৈহাটি ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মিছিল শুরু হয়ে রূপসা থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে ফকিরহাট-খুলনা বাইপাস সড়কের রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পথসভা করা হয়। এতে সড়কে যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।



