হজরত শাহজালাল রহ. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ গায়েব হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ইতোমধ্যে দায়িত্ব পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির উপকমিশনার-ডিসি (মিডিয়া) ফারুক হোসেন।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, আলোচিত এই মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। সাংবাদিকদের পরে আপডেট জানানো হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির উত্তরা বিভাগের এডিসি তৌহিদুল ইসলাম মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।
এই কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি আমরা আর তদন্ত করছি না। এটা ডিবিতে হস্তান্তর হচ্ছে। এজন্য ডিবির একটি টিম আসছে। তাদের সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ডিবির উত্তরা বিভাগ মামলাটির তদন্ত করবে।
এডিসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, স্বর্ণ গায়েবের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তিনজনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টতা পেলেই তাদের যেকোনো সময় গ্রেফতার করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) কাস্টমসের সেই গুদামের ইনচার্জসহ চারজন কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদে তিনজনের নাম ওঠে এসেছে। এরমধ্যে রাজস্বের (কাস্টমস) দুই কর্মকর্তা ছাড়াও সহযোগী এক সিপাহী রয়েছেন। তারা হলেন- সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলাম শাহেদ এবং সহযোগী সিপাই নিয়ামত হাওলাদার।
তবে এই তিনজন ছাড়াও আরও চারজনকে সন্দেহ করছে পুলিশ। যদিও তাদের নাম জিজ্ঞাসাবাদে সেভাবে আসেনি। তবে প্রয়োজনে গত তিন মাসে যারা রোস্টার ডিউটি করেছেন তাদের সবাইকে ধারাবাহিকভাবে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে বলেও জানা গেছ।
সবমিলিয়ে স্বর্ণ গায়েবের ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও ডিবির পাশাপাশি কাজ করছে সিআইডি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)। এমনকি সিআইডি ইতোমধ্যে ফরেনসিক আলামতও সংগ্রহ করেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সাল থেকে প্রতি মাসে হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিভিন্ন যাত্রীরে কাছ থেকে অবৈধ পথে আনা জব্দ করা স্বর্ণ গুদামে রাখা হতো। সবশেষ গত ১৩ আগস্ট পর্যন্ত জব্দ করা স্বর্ণ গুদামে রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাস পরপর স্বর্ণের পরিমাণ যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে গত শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) যাচাই করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান- কয়েকটি লকার থেকে বিভিন্ন সময়ে জব্দকৃত সোনার বার সেখানে নেই। প্রথমে বিষয়টি ধামাচাপাও দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে সেটি প্রকাশ পায়।
এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কাস্টমস বিভাগ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গুদামে কিছুদিন আগেও সিসি ক্যামেরা সক্রিয় ছিল। কিন্তু চুরির ঘটনা প্রকাশে আসার পর জানা গেছে সিসি ক্যামেরা নষ্ট। যদিও সব ক্যামেরাই নষ্ট নয়। যে লকারগুলো থেকে স্বর্ণের বার চুরি হয়েছে, শুধু সেখানকার ক্যামেরাই নষ্ট। এই সিসি ক্যামেরাগুলো থেকে কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন চার শিফটে ডিউটি করেন কাস্টমসের কর্মকর্তারা। কোনো টিম স্বর্ণ জব্দ করলে তাদের নিজ নিজ লকারে রাখেন। লকারগুলোর চাবিও সেই টিমের কাছেই থাকে। আর গুদামে কাস্টমস কর্মকর্তারা ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশের অনুমতি নেই। ফলে গত এক মাসে যারা ডিউটি করেছেন, তাদের মধ্যে থেকেই কেউ এ ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
