রাজধানীর কমলাপুর স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলক ট্রেন প্রথমবারের মতো পদ্মা সেতু পার হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলস্টেশনে গেছে। এ উপলক্ষে দুই স্টেশনে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় উচ্ছ্বসিত দুই পারের মানুষ। পথে পথে দেখা গেছে যাত্রীদের উচ্ছ্বাস।
তবে পদ্মা সেতুতে ট্রেন চলাচলের জন্য এক লেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এটাকে একটি ত্রুটি হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, আরেকটু খরচ বাড়িয়ে হলেও দুই লেনেদের ব্যবস্থা রাখা দরকার ছিল। কেননা এক লেনে যাতায়াত করতে গিয়ে অদূর ভবিষ্যতে দুই পাড়ে সৃষ্টি হতে পারে ট্রেনের জট।
বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৭ মিনিটে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ভাঙ্গা রেলস্টেশনে যায়। এসময় কমলাপুর স্টেশনেও সাধারণ যাত্রীদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ট্রেনটি ভাঙ্গা রেলস্টেশনে গিয়ে পৌঁছায় বেলা সাড়ে ১২টায়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়।
পরীক্ষামূলক এই যাত্রায় গণমাধ্যম কর্মী, রেলমন্ত্রীসহ ট্রেনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যাত্রী হিসেবে ছিলেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রেল চলাচল শুরু হবে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এই রেলপথের উদ্বোধন করবেন।
উপস্থিত যাত্রীরা বলছেন, পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে ট্রেন চলবে এমনটা ভাবা ছিল স্বপ্নের মতো। যদিও আরও আগেই এই স্বপ্ন বাস্তবে ধরা দেওয়ার কথা, দেরিতে হলেও শুরু হচ্ছে। খরস্রোতা নদীতে ট্রেন চলবে আমরা সে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার সাক্ষী হচ্ছি।
কমলাপুর অংশে আরিফুর রহমান নামে এক যাত্রী ট্রেন পেছনে রেখে ছবি তুলতে দেখা যায়। এসময় তিনি বলেন, সংবাদে দেখেছি আজ পদ্মার উপর দিয়ে ট্রেন যাবে। আমিও গ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলাম পাশের প্লাটফর্ম থেকে। এসেছি একটা ছবি তুলতে।
ট্রেনটি ভাঙ্গা রেলস্টেশনে গিয়ে পৌঁছাতেই দেখা যায়, উৎসুক জনতার ভিড়। কেউ হাত তুলে নিজের উচ্ছ্বাসের জানান দিচ্ছে। কেউ মুহূর্তকে করছেন ক্যামেরাবন্দি।
রাজিয়া আক্তার নামে এক যাত্রী বলেন, আমাদের স্বপ্ন সত্যি হতে চলছে। দেরিতে হলেও আজ সবাই বুঝতে পেরেছে যে, নদীর এ পারের মানুষকে বাদ দিয়ে দেশের সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে শুধু আমাদেরই নয়, দেশ সমৃদ্ধি দিকে ছুটছে।
পদ্মা সেতুতে ট্রেন চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে বাড়বে ট্রেন। যুক্ত হবে নতুন নতুন স্টেশন।
তবে পদ্মা সেতু অংশে ট্রেন পারাপারে যাত্রীদের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ভাঙ্গা অংশে আজমত নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এক লাইন দিয়ে পদ্মা (সেতু) পাড়ি দেওয়া যাবে। একটি ট্রেন অতিক্রম করার পরই আরেকটা যেতে পারছে। উৎসব কিংবা বিশেষ দিবস কেন্দ্রিক তৈরি হবে জট।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য এই রেল যোগাযোগ যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, আজ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চলছে। এই রেল যোগাযোগ যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। ঢাকা-ভাঙ্গা রেল যোগাযোগ উদ্বোধনের পরে যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসবে। এর সুফল সারাদেশের মানুষ পাবে।
