মানবতাবিরোধী অপরাধ/১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবতাবিরোধী অপরাধ/১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২২, ২০২৫ ১২:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া তিনটি পৃথক মামলায় ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, সকাল ৭টার কিছু পর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রিজন ভ্যানে করে এই ১৫ জন কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা সাধারণ পোশাকে ছিলেন। এরপর শুনানি শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে কর্মরত সেনা কর্মকর্তা। একজন কর্মকর্তা বর্তমানে অবসরকালীন ছুটিতে (এলপিআর) রয়েছেন। আদালতের নির্দেশে যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন— র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন এবং কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এলপিআর)।

এছাড়া আছেন র‍্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম।

তালিকায় আরও আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন কর্মকর্তা, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।

এই ১৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা গুম, আটক, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িত ছিলেন। মামলাগুলোতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গোপন অভিযান, বেআইনি আটক, এবং নির্যাতনের মাধ্যমে এই অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে।

আলোচ্য তিন মামলার একটিতে ১৭ জন, অপরটিতে ১৩ জন এবং তৃতীয় মামলায় কয়েকজন সাবেক বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই ১৫ সেনা কর্মকর্তা আগে থেকেই সেনা হেফাজতে ছিলেন। আজকের আদেশের পর তাদের হেফাজত থেকে সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়।