বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২, হাসপাতালগুলোতে একের পর এক আসছে আহতরা - জনবার্তা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২, হাসপাতালগুলোতে একের পর এক আসছে আহতরা

জনবার্তা প্রতিবেদন
জুলাই ২১, ২০২৫ ৪:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২১ জুলাই) কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বহু হতাহতের শঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমান বিধ্বস্তের পর থেকে আহতদের জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেলসহ হাসপাতালগুলোতে নেয়া হচ্ছে। সেখানে একের পর এক আহতদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স যাচ্ছে। কারও কারও অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। অনেকের শরীর ৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। শুধু অ্যাম্বুলেন্স নয়, অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি বা অটোরিকশাতে করেও হাসপাতালে যাচ্ছেন।

আহতদের অনেকেরই রক্তের প্রয়োজন। রক্তের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। হাসপাতালে আহাজারি করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।

এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে নেয়া হচ্ছে। সেখানে ৬০ জনের মতো রোগী ভর্তি করা হয়েছে। ঠিক একই অবস্থা ঢাকা মেডিকেল বা অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও। ঢাকা মেডিকেলেও বেশ তোড়জোড় করে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে যাথাসম্ভব প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। উত্তরা ধুনিক হাসপাতালেও একের পর এক রোগী আনা হচ্ছে, সেখানে চিকিৎসা দিতে অন্য হাসপাতাল থেকেও চিকিৎসকরা এসেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সবুজ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলের দোতলা ভবনের প্রবেশ মুখে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। তখন স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। কিছু শিক্ষার্থী বের হয়ে গেলেও অনেকে ভেতরেই ছিল। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরই আগুন ধরে যায়।

এদিকে খবর পেয়ে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট। সেই সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যোগ দিয়েছে ২ প্লাটুন বিজিবি। দুপুর ১টা ২২ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট। বর্তমানে উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, কুর্মিটোলা, মিরপুর ও পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের ১০টি ইউনিট কাজ করছে।

এর আগে, বেলা ১টা নাগাদ বিমানটি আছড়ে পড়ে। এটি বিমান বাহিনীর F-7 BGI (701) মডেলের বলে জানা গেছে। বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথে প্রশিক্ষণ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার পর আশপাশের এলাকার মানুষ ছুটে যায়। বিমানটিতে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই বিমানে আর কেউ ছিলেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিমানটি যেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে, সেখানে কয়েকজন বেসমারিক ব্যক্তিও আহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিতে দেখা যায়।