জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) হলরুমে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মামুনুর রশিদ ওরফে মামুন ও ধর্ষণের অন্যতম সহায়তাকারী মোঃ মুরাদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার রাজধানীর ফার্মগেট ও নওগাঁ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আল-আমিন। তিনি জানান, আলোচিত জাবির হলরুমের একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মূল পরিকল্পনাকারী মামুনুর রশিদ মামুনকে ফার্মগেট এলাকা থেকে এবং ধর্ষণের অন্যতম সহায়তাকারী মুরাদকে নওগাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (৩ ফেব্র“য়ারি) জাবিতে স্বামীকে আবাসিক হলে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজ এবং মামুন নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী আশুলিয়া থানায় ছয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। গত ৪ ফেব্র“য়ারি এর মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, একই বিভাগের সাগর সিদ্দিকী ও হাসানুজ্জামান এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান। পরদিন ৫ ফেব্র“য়ারি ৪ জনকে আদালতে নেওয়া হলে, আদালত প্রত্যেকের ৩ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৩ ফেব্র“য়ারি সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর স্বামীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে নিয়ে আসেন মামুন। তার স্বামী অভিযুক্ত মামুনকে জানান, তারা কিছু আসবাবপত্র কিনবেন। তখন মামুন তাকে বলেন, এক আসবাবপত্র দোকানে তার টাকা পাওনা আছে, কিন্তু দোকানদার টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। ওই দোকান থেকে আসবাবপত্র কিনে টাকাটা যাতে মামুনকে দেওয়া হয়। তাকে নিয়ে দোকানে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর স্বামীর।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘মামুন আমাদের বাসায় ভাড়া থাকত। তিনি আমার স্বামীর মাধ্যমে কল দিয়ে আমাকে তার রেখে যাওয়া জিনিসপত্র নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বলেন। আমি তার জিনিসপত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে যাই। তখন তিনি আমাদের বাসায় থাকবেন না বলে জানান। এছাড়া তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের মোস্তাফিজের কাছে থাকবে বলেও জানান।’
এরপর মোস্তাফিজ ও মামুন মিলে ভুক্তভোগীর স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলে আটকে রাখেন। পরে জামা-কাপড় নিয়ে ওই নারী ক্যাম্পাসে আসলে তার কাছ থেকে সেগুলো নিয়ে কক্ষে রেখে আসতে যান মামুন।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘পরে আমার স্বামী অন্যদিকে থেকে আসবে বলে আমাকে হলের সামনে থেকে পাশের জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে যায়। তার সঙ্গে মোস্তাফিজও ছিল। তখন তারা আমাকে ধর্ষণ করে।’
জানা যায়, মীর মশাররফ হোসেন হলের ৩১৭ নম্বর কক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান থাকতেন। এ বিষয়ে হলের একাধিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতারা জানান, মোস্তাফিজুরের সঙ্গে মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইয়াবার ব্যবসা করতেন। মামুন প্রায়ই হলে যাতায়াত করতেন।

