খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ফুলতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। ডুমুরিয়ার মিকশিমিল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে তিনি পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ হুমকি দেন। তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নৌকা প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ন চন্দ্র চন্দের কর্মী-সর্মথকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে চিনিস না। তোদেরকে এমন কাজ করবো নারান বাবু কেন, তোদের বাপও ঠেকাতে পারবে না। দু’টি গুলি করলেই যথেষ্ট।’
খুলনার রিটার্নিং অফিসার ও খুলনা জেলা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ওই ভিডিও ফুটেজটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গঠিত ইলেকট্ররাল কমিটিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
শোকজ ও তলব : নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেনকে শোকজ করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। বুধবার নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান খুলনা সদর আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ রতœা সাহা বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) শেখ আকরাম হোসেনকে কার্যালয়ে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্বাচনি আচারণ বিধিমালা সঠিক ভাবে পালন করছেন না মর্মে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ও তার সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার আক্রামণাত্মক বক্তব্য প্রদান করছেন মর্মে পত্র প্রেরণ করেছেন।
উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভিডিওটি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচারণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অতএব আপনার বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশন বরাবর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হবে না মর্মে বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হতে পদত্যাগ করে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। ঋণখেলাপির দায়ে রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন ও উচ্চ আদালতও তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। পরে চেম্বার জজ তাকে নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করার সুযোগ দিয়েছেন।



