ওয়াক্তিয়া নামাজের আগে কাজা পড়া জরুরি কেন - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়াক্তিয়া নামাজের আগে কাজা পড়া জরুরি কেন

জনবার্তা প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৪ ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নামাজ কাজা নেই—এমন ব্যক্তির যদি কোনো নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ পড়ার আগেই ওই কাজা আদায় করা জরুরি। কেউ স্মরণ থাকা সত্ত্বেও যদি কাজা আদায় না করেই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে, তাহলে তার ওয়াক্তিয়া ফরজ আদায় হবে না। কাজা পড়ে পুনরায় ওয়াক্তের নামাজ পড়তে হবে।

কাজা আদায় করলে যদি ওয়াক্তের নামাজের জামাত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকে, তবুও আগে কাজা আদায় করতে হবে। তবে আগে কাজা পড়তে গেলে যদি ওয়াক্তটাই ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়, তাহলে ওয়াক্তের নামাজ আগে পড়ে নেবে।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَذَكَرَهَا مَعَ الْإِمَامِ فَلْيُصَلِّهِ مَعَهُ ثُمَّ لِيُصَلِّ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ الْأُخْرَى بَعْدَ ذَلِكَ ‘যে ব্যক্তি কোনো ওয়াক্তের নামাজ (ওয়াক্তের ভেতর) পড়তে ভুলে গেছে, তারপর ইমামের পেছনে (পরবর্তী ওয়াক্তের) নামাজ পড়ার সময় তার ওই নামাজের কথা মনে পড়েছে, সে যেন ইমামের সাথে নামাজটি পড়ে নেয়। এরপর যে নামাজটি পড়তে ভুলে গিয়েছিল তা এবং ইমামের সাথে যে নামাজটি পড়েছে তা-ও পুনরায় পড়ে নেয়।’ (শরহু মাআনিল আসার, তহাবি: ২৬৮৪;; মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক: ২২৫৪)

এ হাদিস বর্ণনা করার পর ইমাম তহাবি (রহ) বলেন, ইমামের সাথে যে নামাজটি পড়েছে তা আমাদের নিকট নফল হিসেবে গণ্য হবে।

কোনো মুসলমানের জিম্মায় ৬ ওয়াক্ত নামাজের কম কাজা থাকলে ফিকহের পরিভাষায় তাকে “সাহেবে তারতিব” বলা হয়। এরকম ব্যক্তির ওপর সিরিয়াল ঠিক রাখা আবশ্যক হয়। অর্থাৎ আগে কাজা নামাজ আদায় করতে হবে তারপর ওয়াক্তিয়া আদায় করবে। কাজার ক্ষেত্রেও তাকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সেই হিসেবে কাজা নামাজ আদায় করার আগেই যদি পরবর্তী নামাজের সময় হয়ে যায় তাহলে প্রথমে কাজা আদায় করা আবশ্যক। তারপর ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করবে।

আর যদি ৬ ওয়াক্ত থেকে বেশি নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তাহলে তারতিব বা সিরিয়াল রক্ষা করা জরুরি নয়। সুতরাং সে কাজা আদায় না করেই নতুন আসা ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে পারবে। ব্যতিক্রম করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে।

(আলমুহিতুল বুরহানি: ২/৩৪৭-৩৫০; আল বাহরুর রায়েক: ২/৮০; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১২২; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/১২১; বাদায়েউস সানায়ে: ১/৫৬০-৫৬৩)