চার ভাই ও ভাগ্নে মিলে জাল টাকা ও জাল রুপি তৈরি করে আসছিল। প্রতি লাখ জাল রুপি তৈরিতে তাদের খরচ হতো ৩ থেকে ৪ হাজার। এক লাখ রুপি বিক্রি করত ২৭ হাজার টাকায়। এর পাশাপাশি দেশীয় জাল টাকাও তৈরি করে আসছিল চক্রটি। ভাগ্নেকে নিয়ে দুই ভাই জাল নোট তৈরি করত। বাকি দুই ভাই অর্ডার নেওয়া, বাজারজাত এবং বিনিময় করত। এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে জাল নোট তৈরি করে এলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল তারা। অবশেষে গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর লালবাগ থানা পুলিশের অভিযানে চক্রটির তিন সদস্যকে ধরা পড়ে। এরপর তাদের থেকে এসব তথ্য জানতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মাহি (১৯), সাজ্জাদ হোসেন রবিন (৩৮) এবং সাদমান হোসেন হৃদয় (৩০)। তাদের কাছ থেকে ১০ লাখ বিশ হাজার জাল টাকা ও ভারতীয় ১ লাখ রুপি এবং জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে কথা বলেন লালবাগ বিভাগের ডিসি জাফর আহমেদ।
তিনি বলেন, চক্রটিতে চার ভাই ও ভাগ্নে জড়িত। এর মূলহোতা হুমায়ুন। চক্রের সদস্যদের মধ্যে মাহি ও তার ভাগ্নে হৃদয় মিলে জাল টাকা ও রুপি তৈরি করত। সাজ্জাদ একজন গ্রাফিক্স ডিজাউনার। ফলে টাকা ডিজাইন করত। বাকি দুই ভাই হুমায়ুন ও শফিউল্লাহকে দিয়ে অর্ডার নেওয়া, বাজারজাত ও গ্রাহকের কাছে জাল টাকা ও রুপি পৌঁছাত। পলাতক হুমায়ুন ও শফিউল্লাহ ২০০৭ সাল থেকে কোটি কোটি জাল টাকা ও রুপি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়। পলাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
জাফর আহমেদ আরও বলেন, চক্রটি টাকার চেয়ে জাল রুপি তৈরি করেই বেশি টাকা পেত। প্রতি লাখ জাল রুপিতে তারা পেত ২৭ হাজার টাকা। আর এসব জাল টাকার ওপর তারা এমনভাবে জল ছাপ দিত যে আসল না নকল তা বোঝা বড় কঠিন হতো।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, চক্রের মূলহোতা সাজ্জাদ সূত্রাপুরে একবার ধরা পড়েছিল। তার নামে থানায় মামলাও আছে।
যেভাবে সাজ্জাদ জাল টাকার ব্যবসায়
গ্রেফতার সাজ্জাদ হোসেন রবিন মূলত গ্রাফিক্স ডিজাইনার। ২০০৭ সালে শহীদ নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সেই থেকে জড়িয়ে পড়েন এই ব্যবসায়। এরই মাঝে তার বন্ধু শহীদ মারা যায়। ফলে এই ব্যবসা বন্ধ করে দেন। আবারও ২০২০ সালের পর থেকে জাল নোটের ব্যবসা শুরু করেন সাজ্জাদ। করোনাকালে অবস্থা খারাপ হলে কর্মীদের বেতন দিতে পারছিলেন না। তখন কর্মীরা তার বাড়িতে ভিড় করেন।
এরপর হুমায়ুন ও শফিউল্লাহর সহায়তায় আবারও ব্যবসা শুরু করেন। তারা তাকে বিভিন্ন কাজ দিতে বলে। এরপর আবারও জাল রুপি ও টাকা ছাপানো শুরু করে সাজ্জাদ। সাজ্জাদের ভাষ্য মতে, তিনি এখন পর্যন্ত এই চক্রের মাধ্যমে ৫ কোটির বেশি ভারতীয় জাল রুপি ছাপিয়ে বাজারজাত করেছেন।
পুলিশ জানায়, মূলত চক্রটি এসব জাল রূপি সীমান্ত এলাকায় স্মাগলিং কাজে ব্যবহার করত। ভারতীয় শাড়ি, মাদক বা বিভিন্ন সামগ্রী কিনে তারা এসব রুপি দিয়ে তা পরিশোধ করত।
