সুন্দরবন সুরক্ষায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি - জনবার্তা
ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবন সুরক্ষায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি

জনবার্তা প্রতিবেদন
মে ৩০, ২০২৪ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিবছর উপকূলজুড়ে ছোট-বড় কোনো না কোনো দুর্যোগে আঘাত হানে। সেই দুর্যোগে উপকূলবাসীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ করা যায়। এবারও ঢাল হয়ে সাতক্ষীরা অঞ্চলকে আরও ভয়ানক ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে সুন্দরবন। বাতাসের গতিবেগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে এ বন।

সম্প্রতি সাতক্ষীরার উপকূল এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও আতঙ্ক কাটেনি এ উপকূলীয় জনপদের মানুষের। রেমালের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ উপচে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, জেলায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে ১ হাজার ৪৬৮টি কাঁচা ঘরবাড়ি। এর মধ্যে আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২টি ও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে ২৭৬টি ঘরবাড়ি। এছাড়া জেলায় ৬০৬ হেক্টর জমির ফসলের ও ২০০ হেক্টর জমির মাছের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৬ জন মানুষ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলে পল্লীর শতাধিক পরিবার। একইসঙ্গে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলাতে অসংখ্য গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে নদ-নদীগুলোতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ থেকে ৭ ফুট বেশি উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতাধীন ৬৮০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে, যা ষাটের দশকে নির্মিত। এর মধ্যে উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির ১০টি পয়েন্টে ১২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যার মধ্যে উক্ত দুই উপজেলায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অতিঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্টের উপচেপড়া পানিতে ভেসে গেছে ২০০ হেক্টর জমির মৎস্য ঘের ও ৬০৬ হেক্টর ফসলি জমি। এছাড়া কয়েকশ পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

অন্যদিকে, সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ১৫টি ক্যাম্পে সুপেয় পানির পুকুরসহ প্রায় এক কোটি ছয় লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সাতক্ষীরার ৪৩টি ইউনিয়নে কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তাই সরকারের কাছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকা।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও সুন্দরবন সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের কথা উল্লেখ করে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় বা প্রকৃতির দুর্যোগে সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকা ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির হয়, যার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সময় লেগেছে উপকূলীয় মানুষের এবং ঝড়ে সুন্দরবনের গাছপালা, বন্যপ্রাণী ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সমিতি ঢাকার সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘উপকূলবাসীকে নিরাপদ রাখতে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। বারবার প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও যে পরিমাণ ব্যয় করা হয় তাতে এ এলাকায় অনেক উন্নত অবকাঠামো করা সম্ভব। সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ রক্ষায় রিং বাঁধ নির্মাণ করা দরকার।’