বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এঁর ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী আজ, ৩০ মে। দিবসটি পালনে তিনদিনের কর্মসূচি পালন করছে খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপি। ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’র তান্ডবে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করেছে দলটি।
কর্মসূচির প্রথম দিনে আজ বৃহস্পতিবার মহানগর ও জেলা বিএনপি’র কার্যালয়সহ সকল দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাচ ধারণ। সকাল ১০টায় দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল, সাড়ে ১০টায় ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি, বেলা ১১টায় সদর থানা বিএনপি’র উদ্যোগে দোয়া ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, পরপরই মহানগরী সকল থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নে দোয়া মাহফিল ও খাবার বিতরণ। বিকেল ৩টায় রূপসার নৈহাটী ইউনিয়নের পূর্ব রূপসা বাস স্ট্যান্ডে, বিকেল ৪টায় কুদির বটতলায়, বিকেল ৫টায় আইচগাতি ইউনিয়নের সেনেরবাজারে এবং সন্ধ্যা ৬টায় দিঘলিয়ায় দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।
দ্বিতীয় দিনে (শুক্রবার) জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে খুলনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বই মেলা। অন্যদিকে, জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে ডুমুরিয়া, ফুলতলা ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে।
তৃতীয় দিনে ২ জুন বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে শহিদ জিয়া বীর উত্তম-এঁর অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এসব কর্মসূচি সফল করতে খুলনা মহানগর ও জেলা, থানা/উপজেলা ও পৌরসভা, ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীদের প্রতি আহŸান জানিয়েছেন নগর বিএনপি’র আহবায়ক এড. শফিকুল আলম মনা, জেলা আহবায়ক আমীর এজাজ খান, নগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন ও জেলা সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।।
প্রসঙ্গত, জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জন্ম ও শৈশবে তার ডাক নাম ছিল কমল। তার পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম ছিল জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তার পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার শৈশবের কিছুকাল বগুড়ার গ্রামে ও কিছুকাল কলকাতা নগরীতে অতিবাহিত হয়। ভারতবর্ষ বিভাগের পর তার পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি নগরীতে চলে যান। তখন জিয়া কলকাতার হেয়ার স্কুল ত্যাগ করেন এবং করাচি একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। ওই বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন এবং তারপর ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি. জে. কলেজে ভর্তি হন। একই বছর তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট রূপে যোগদান করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি কাকুল পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট রূপে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট রূপে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন। সামরিক বাহিনীতে তিনি একজন সুদক্ষ ছাত্রসেনা ও কমান্ডো হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেন এবং স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। করাচিতে দুই বছর কর্মরত থাকার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে স্থানান্তরিত হয়ে আসেন। জিয়াউর রহমান ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ওই সময় ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের দিনাজপুর শহরের খালেদা জিয়ার সঙ্গে জিয়াউর রহমান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে তিনি অসীম বীরত্বের পরিচয় দেন। যুদ্ধে অসীম সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যেসব কোম্পানি সর্বাধিক বীরত্বসূচক পুরস্কার লাভ করে, জিয়াউর রহমানের কোম্পানি ছিল তাদের অন্যতম। এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য পাকিস্তান সরকার জিয়াউর রহমানকে হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত করে। এ ছাড়াও জিয়াউর রহমানের ইউনিট এই যুদ্ধে বীরত্বের জন্য দু’টি সিতারা-ই-জুরাত এবং নয়টি তামঘা-ই-জুরাত পদক লাভ করে। ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। অ্যাডভান্সড মিলিটারি এন্ড কমান্ড ট্রেনিং কোর্সে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তিনি পশ্চিম জার্মানিতে যান এবং কয়েক মাস ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সাথেও কাজ করেন। ১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে।
