শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ - জনবার্তা
ঢাকা, রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

জনবার্তা প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩ ১:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামসরা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। বুদ্ধিজীবী হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

যথাযোগ্য মর্যাদায় শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকাল ৭টা ৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং ৭টা ৬ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে শহিদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং যুদ্ধাহত ও উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা একই দিনে সকাল ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এবং সকাল সাড়ে ৮টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সর্বস্তরের জনগণ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। এদিন সংবাদপত্রসমূহে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দেশের সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারি টিভি চ্যানেল দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে। দিবসটি উপলক্ষে সকল মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হবে।

একাত্তরে ত্রিশ লাখ লোক শহিদ হন। এদের মধ্যে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঘটনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তারা শহীদ হন এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে।

একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধী ও বুদ্ধিজীবী হত্যার সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকের বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এ দেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে নিদারুণ যন্ত্রণা দিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের হত্যা করা হয়। এ দু’টি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত।

মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে।

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডাঃ আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল­াহ কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সঅধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক রশীদুল হাসান, ড. আবুল খায়ের, ড. মুর্তজা, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এ এন এম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভিনসহ আরো অনেকে।

খুলনা কর্মসূচি : দিবসটি সামনে রেখে আজ খুলনায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : দিবস পালন উপলক্ষে সকাল ৯টায় শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের সম্মুখে কালোব্যাজ ধারণ, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে উপাচার্য কর্তৃক জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে অদম্য বাংলায় শোভাযাত্রা সহকারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, সকাল সাড়ে ১০টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় মন্দিরে প্রার্থনা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় শহিদ মিনার ও অদম্য বাংলায় প্রদীপ প্রজ্বলন।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : দিবস উপলক্ষে সুর্যোদয়ের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের বাসভবন এবং আবাসিক হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন (অর্ধনমিত) ও কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল সাড়ে ১০টায় শোক-র‌্যালি, বেলা ১১টায় অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, বাদ আসর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান, ৬টায় আলোর মিছিল এবং সাড়ে ৬টায় অডিটরিয়ামে ভিডিও প্রদর্শিত।

নগর আ’লীগ : দিবসটি উপলক্ষে আজ বাদ মাগরিব দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া। এর আগে বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে গল­ামারী বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

জেলা আ’লীগ : শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের পরপরই দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন। বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা। এর আগে বুদ্ধিজীবী দিবসে প্রথম প্রহরে অর্থাৎ ১৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে গল­ামারী বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মহানগর ও জেলা বিএনপি : দিবস উপলক্ষে দলের মহানগর ও জেলা কার্যালয়সহ থানা, উপজেলা ওয়ার্ড কার্যালয়সমূহে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধঃনমিতকরণ করা হবে। সকাল ৭টায় গল­ামারীস্থ শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করা হবে। বেলা ১১টায় দিবসটি উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা।

খুলনা প্রেসক্লাব : দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা। এর আগে ১৩ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে গল­ামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।