শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংস হয়েছিল যে ৬ নবীর সম্প্রদায় - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শয়তানের ধোঁকায় ধ্বংস হয়েছিল যে ৬ নবীর সম্প্রদায়

জনবার্তা প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৫ ২:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মানুষের সঙ্গে শয়তানের শত্রুতা সেই আদিকালের। আল্লাহ তায়ালার দরবার থেকে বিতাড়িত ইবলিশ শপথ করেছিলো সে নিজের মতো আদম সন্তানকেও বিপদগামী করবে। প্রথমেই সে ফন্দি এঁটে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামিয়ে আনে। পৃথিবীতে সবধরণের অন্যায়-অনাচারের মূলে থাকে ইবলিশের কুমন্ত্রণা। কোরআন হাদিসের বর্ণনা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট যে অভিশপ্ত ইবলিশের কুমন্ত্রণাতেই মানুষ বিপথগামী হয়।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, …সে (শয়তান) বলল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে অবকাশ দিন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। তিনি বললেন, তুমি অবকাশ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হ’লে অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত। সে বলল, আপনার সম্মানের শপথ! আমি তাদের সকলকেই পথভ্রষ্ট করব। তবে তাদের মধ্যে একনিষ্ঠ বান্দাদের নয়। তিনি বললেন, তবে এটাই সত্য আর আমি সত্যই বলি। তোমার দ্বারা ও তোমার অনুসারীদের দ্বারা আমি জাহান্নাম পূর্ণ করবই।’ -( সূরা, সোয়াদ, আয়াত : ৭৮-৮০)

শয়তান মানুষকে যেসব পথ-পন্থা অবলম্বন করে আল্লাহ বিমুখ করতে চায় তার একটি দারিদ্র্যের ভয়। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং জঘন্য কাজে উৎসাহ দেয়, পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের তাঁর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। আল্লাহ বিপুলদাতা, সর্বজ্ঞ’। (সুরা বাকারা : ২৬৮)

ইতোপূর্বে পৃথিবীর বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে। পবিত্র কোরআনে বিখ্যাত ৬জন নবীর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআনে এই তালিকায় নুহ, আদ, সামুদ, লুত, মাদায়েনবাসী ও বনি ইসরাইল—এই ছয় সম্প্রদায়ের অবাধ্য ও গজবে ধ্বংস হওয়ার কথা আলোচনা করা হয়েছে।

>> প্রথমে ধ্বংস করা হয়েছিল নূহ আ.-এর সম্প্রদায়কে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মূর্তিপূজা ত্যাগ না করায় ভয়ংকর বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস দিয়ে নুহ (আ.)-এর জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

>> হজতর হুদ (আ.) এর সম্প্রদায় ছিল আদ জাতি। শক্তি ও ক্ষমতার বাহাদুরি এবং মূর্তিপূজা না ছাড়ায় বিভিন্ন শাস্তি দিয়ে আদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

>> সালেহ আ.-এর সম্প্রদায় ছিল সামুদ জাতি। আল্লাহর নিদর্শন বিশেষ একটি উট হত্যার কারণে ভূমিকম্প দিয়ে সামুদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়।

>> লুত (আ.) এর সম্প্রদায় ছিল কওমে লুত। সমকামিতার অপরাধে জড়িত ছিল তারা। লুত আ. তাদেরকে বারবার এই অপরাধ থেকে ফিরে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু তারা ফেরেনি। ফলে ভূমি উল্টে পাথরবৃষ্টি দিয়ে লুত (আ.)-এর জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল।

>> মাদায়েন এলাকায় নবী হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছিল নবী শোয়াইব (আ.) কে। তার সম্প্রদায় তাওহিদে অবিশ্বাস, মাপে কম দেওয়া, সম্পদ আত্মসাৎ, অর্থনৈতিক অসততা ও মানুষকে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়ার মতো অপরাধে লিপ্ত ছিল। অপরাধ থেকে না ফেরায় তাদেরকে ভূমিকম্প দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।

>> বনী ইসরায়েলে আল্লাহ তায়ালা একাধিক নবী পাঠিয়েছিলেন। তবে তাদের একজন বিখ্যাত নবী ছিলেন মুসা (আ.)। বনী ইসরায়েল নবীর কথা না শুনে নিজের ক্ষমতার প্রতি অন্ধ মোহ, মুসা ও হারুন (আ.)–কে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। ফলে আল্লাহ তায়ালা ফেরাউন ও তার জাতিকে নীল নদে ডুবিয়ে ধ্বংস করেছিলেন।