প্রেমিকের অবাধ্য হওয়ায় তরুণীকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন, ভিডিও ধারণ - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রেমিকের অবাধ্য হওয়ায় তরুণীকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন, ভিডিও ধারণ

জনবার্তা প্রতিবেদন
এপ্রিল ১, ২০২৪ ৩:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় এক তরুণীকে শিকলে বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় তিন যুবক ও এক নারীকে গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মূলত সেই তরুণীর সঙ্গে মাসুদ নামে এক আইনজীবীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাকে ছেড়ে অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোয় উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন সেই আইনজীবী। তার কথামতো এক নারী তিন যুবককে দিয়ে সেই তরুণীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। তাকে শিকলে বেঁধে ধারণ করা হয় পর্নো ভিডিও। এরপর সেই ভিডিও পাঠিয়ে দেওয়া হয় কথিত সেই প্রেমিকের কাছে।

সোমবার (১ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক।

এর আগে রোববার রাতভর অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- ভুক্তভোগী তরুণীর বর্তমান প্রেমিক সান ও তার দুই বন্ধু হিমেল, রকি এবং সালমা ওরফে ঝুমুর।

গত ২৯ মার্চ জাতীয় জরুরি সেবায় কল পেয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার নবীনগর হাউজিংয়ের একটি ভবন থেকে শিকলবন্দি অবস্থায় সেই তরুণীকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

ডিসি আজিমুল বলেন, বাবা মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকতেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে মাসুদ নামের এক আইনজীবীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তার সঙ্গে লিভটুগেদার করতেন। মাসুদ বেশিরভাগ সময় বিদেশে থাকতেন। দেশে এলে ওই তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। পরে মাসুদের মাধ্যমে এক প্রবাসীর স্ত্রী সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় তরুণীর। এক পর্যায়ে সালমার সঙ্গে সেই ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন তিনি। যার সব খরচ বহন করতেন মাসুদ। পরে ঝুমুরের মাধ্যমে সান নামের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মাসুদ।

পরবর্তী সময়ে মাসুদ ভুক্তভোগী তরুণীকে শায়েস্তা করতে তার বর্তমান প্রেমিক সানের সঙ্গে হাত মেলান। সালমাকে দিয়ে তাদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মাসুদের নির্দেশনায় কাজ করান। তরুণীর রুমে বসানো হয় গোপন ক্যামেরা। বিভিন্ন সময় সান ও তার বন্ধু হিমেল ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে পাঠাতেন মাসুদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছিল।

আজিমুল হক বলেন, ভুক্তভোগী তরুণীকে নির্যাতনের বেশিরভাগ ভিডিও ও ছবি সালমার মোবাইলে ছিল। কিন্তু তিনি মোবাইলটি লুকিয়ে ফেলেছেন। তাই সেটি পেলে নির্যাতনের আসল তথ্য ও ভিডিওর গন্তব্য সম্পর্কে জানা যাবে।

যেভাবে উদ্ধার হন তরুণী
ডিসি আজিম বলেন, গত ২৯ মার্চ রাত ৯টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণীকে শিকলে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তরুণীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ভুক্তভোগী তরুণী ঘুমিয়ে গেলে বাহিরে যান সালমা, সান ও অন্যরা। কিছুক্ষণ পর ভুক্তভোগীর ঘুম ভেঙে গেলে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে চিৎকার দিলে পথচারীরা ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ গিয়ে ওই ভবনের চারতলা থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।