কিস্তি দিতে না পারায় নারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ - জনবার্তা
ঢাকা, রবিবার, ২৪শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কিস্তি দিতে না পারায় নারীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ

জনবার্তা প্রতিবেদন
মার্চ ২৪, ২০২৪ ৪:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরের গুরুদাসপুরে কিস্তি দিতে না পারায় কুলসুম বেগম (২৮) নামে এক নারী গ্রাহককে মাথা ফাঁটানোর অভিযোগ উঠেছে আশা এনজিও’র পাঁচ কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৩ মার্চ) সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের পমপাথুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন—পমপাথুরিয়া গ্রামের মো. সোহেলের স্ত্রী কুলসুম বেগম (২৮), সোহেল হোসেন (৩২) ও তার ছোট ভাই মো. শান্ত হোসেন (২২)।

আহতরা বর্তমানে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত নারী মোছা. কুলসুম বেগম জানান, অভাব অনটনের সংসার আমাদের। এ কারনে আশা এনজিও’র মৌখাড়া শাখা থেকে আমার স্বামী সোহেলের নামে ৮৬ হাজার ও শাশুড়ী আরজিনা বেগমের নামে ৪৫ হাজার টাকা সাপ্তাহিক কিস্তি হিসাবে ঋণ নিয়েছিলাম ।

প্রায় ১০ বছর যাবৎ এই সমিতি থেকে আমরা ঋণ নিয়ে আবার নিয়ম মতো পরিশোধও করেছি। কিন্তু চলমান কিস্তির দুই সপ্তাহের টাকা বকেয়া পরে ৭ হাজার টাকা। ছেলের অসুস্থ্যতা ও আর্থিক সমস্যার কারনে এই দুই সপ্তাহ কিস্তি দিতে পারিনি। শনিবার সন্ধায় আশা এনজিও’র সিনিয়র সহকারী ম্যানেজরা মাসুদ রানা, সিনিয়র লোন অফিসার মোশারফ হোসেন, লোন অফিসার সাইদুল ইসলাম, মিলন নন্দী ও চাম্পা খাতুন আমাদের বাড়িতে কিস্তির টাকা আদায় করার জন্য আসেন। টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছে বলে এনজিও কর্মীদের আমি অনুরোধ করে আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলি। আমাকে বিভিন্ন ধরনের গাল মন্দ করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, একপর্যায়ে এনজিওকর্মীদের আমি বলেই ফেলি যে আমাদের মারপিট করলেও এখন টাকা দেওয়া সম্ভব হবে না। এ কথা বলার পরেই বাড়ির উঠানে থাকা আমার সেলাই মেশিনের টেবিল থেকে কেঁচি নিয়ে প্রথমে আমার ওপর হামলা চালায়। পরে আমার স্বামী ও দেবর এগিয়ে এলে তাদেরকেও গালমন্দ করে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

আশা এনজিও’র মৌখাড়া শাখা’র সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার মাসুদ রানা বলেন, এনজিও’র কার্যক্রম অনুযায়ী গ্রাহকের বাড়িতে আমরা টাকা আদায় করতে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আক্রমণ করে। নিজেদের বাঁচানোর জন্য দুই পক্ষের মধ্যেই ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে ওই নারীর হাতে থাকা কেঁচি লেগে তার কেটে যায়। আমরাও আহত হয়েছি।

লালপুর থানার কর্মকর্তা ওসি মো. উজ্জল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় গ্রহক পক্ষের ২/৩ জন এবং এনজিও এককর্মী আহত হয়েছেন। বিষয়ে দুই পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েন করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।