
তবে প্রাথমিক সে রকম বাধা অতিক্রম করে দলের সদস্য বাছাই শেষ হয়ে যাওয়ার পর অন্য যে মাথাব্যথা জাপানের ফুটবল কর্মকর্তাদের সামনে দেখা দেয়, তা হলো গ্রুপ পর্যায়ে দলের অন্তর্ভুক্তি। জাপান জায়গা পেয়েছে ‘ই’ গ্রুপে, শুরু থেকেই যেটাকে দেখা হচ্ছিল দুই শক্তিধর দল জার্মানি ও স্পেনের সামনে দুর্বল হিসেবে গণ্য জাপান ও কোস্টারিকার জন্য দুঃস্বপ্নের গ্রুপ হিসেবে। জাপানের ফুটবলপ্রেমিকদের পাশাপাশি দেশের সংবাদমাধ্যমও ধরে নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব পার হওয়া জাপানের জন্য হবে প্রায় অসম্ভব। ফলে, সে রকম অবস্থায় খেলার কৌশল ঠিক করে নেওয়া ছিল মোরিইয়াসুর জন্য কষ্টকর এক কাজ।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গোল করা সেই ছেলেটিই হারিয়ে দিল জার্মানিকে
খেলার আগের এবং খেলা শুরু হওয়ার পরের এ পরিস্থিতি সম্ভবত মোরিইয়াসুকে অনেকটা ভারমুক্ত করে থাকবে। আর এ অবস্থায় খেলার কৌশল ব্যাপকভাবে বদলে নেওয়ার মতো ঝুঁকি গ্রহণে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তিনি ধরে নিয়েছিলেন, ঝুঁকি থাকলেও ক্ষতির কিছু হয়তো সেখানে নেই। ঝুঁকির এ বিষয় আলোচনায় চলে আসে খেলা শুরু হওয়ার সময় থেকেই।
প্রথমার্ধের প্রায় পুরো সময় ধরে জাপানের পায়ে বল প্রায় উঠতেই দেখা যায়নি। বলা যায়, বল প্রায় পুরো সময় ছিল জার্মানির কবজায়।

সবচেয়ে বেশি যাঁর ওপর মোরিইয়াসু নির্ভর করেছিলেন, স্পেনের লিগে খেলা এবং জাপানে ছোট মেসি নামে পরিচিত সেই তকেফুসা কুবো খেলার ধারা যেন একেবারেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পাশাপাশি আক্রমণভাগে দাইজেন মায়েদাও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। রক্ষণভাগের দুর্বলতাও প্রথমার্ধে অনেকের দৃষ্টি এড়িয়ে যায়নি।
এ কারণে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই প্রথমে তিনজন এবং পরে আরও দুজন বদলি খেলোয়াড়কে কোচ মাঠে নামান, যাঁদের উপস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দেয় জাপানের খেলার ধারা। ২টি গোলই করেছেন দুই বদলি খেলোয়াড় এবং বলা যায়, পরাজয়ের মুখ থেকে জাপানের জয় তাঁরা ছিনিয়ে এনেছেন।
এবার জার্মানিকে হারিয়ে আরেক অঘটন জাপানের

এই সাফল্য জাপানের কাছ থেকে ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশা এখন একলাফে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকেই এখন দলের গ্রুপ পর্ব পার হয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। ২৭ নভেম্বর কোস্টারিকার বিরুদ্ধে খেলায় জাপানের বিজয় নিশ্চিত করে দেবে গ্রুপ পর্যায় উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি।
মোরিইয়াসু অবশ্য কেবল কোস্টারিকাকে পরাজিত করতে পারা নিয়েই আশান্বিত নন, একই সঙ্গে তিনি মনে করছেন, স্পেনের বিরুদ্ধেও চমক দেখাতে সক্ষম হবে তাঁর দল। সন্দেহ নেই, প্রথম খেলায় অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করার মধ্য দিয়ে দলের খেলোয়াড়দের মনোবল এখন অনেকটাই দৃঢ়। ফলে, কাতারে জাপানের সাফল্যের স্বপ্ন দেখা এখন আর দিবাস্বপ্ন গণ্য হবে না।

