স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিলো স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার কূর্শা ইউনিয়নের ধর্মেশ্বর ড্রাইভারপাড়া গ্রামে।
শনিবার (৫ আগষ্ট ) দিবাগত রাতে পারিবারিক কলহের জেরে সন্তানের সামনে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছে মানষিক ভারসাম্যহীন স্বামী রবীন্দ্রনাথ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফরহাদ মন্ডল।
এদিকে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে মানসিক রোগী রবীন্দ্রনাথের সাথে তার স্ত্রী শুভা রাণীর ঝগড়া লাগে। এক পর্যায়ে স্বামী রবীন্দ্ররাথ ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় ছুরির আঘাতে গুরুতর জখম হন স্ত্রী শুভা রাণী। তাদের ঝগড়া ও চিৎকারে ছুটে আসে রবীন্দ্রনাথের ছোট ভাই চেতনা এবং চচাতো ভাই গোলাপ চন্দ্রসহ আশপাশের লোকজন। মানসিক ভারসাম্যহীন রবীন্দ্রনাথের হাতে ধারালো ছুরি দেখে ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস না পেলেও ভাবিকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই চেতনা চন্দ্র গুরুতর জখম হয়।
পরে এলাকাবাসী ছুরিকাঘাতে জখম হওয়া শুভা রাণী ও আহত চেতনাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৬টার দিকে শুভা রানীর মৃত্যু হয়। বর্তমানে আহত চেতনা চন্দ্র চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, স্ত্রীকে ধারালো ছুরি দিয়ে গুরুতর জখম করে ভোর রাতেই বাড়ির গোয়াল ঘরে ঢুকে দরজা আটকিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন স্বামী রবীন্দ্রনাথ। খবর পেয়ে শনিবার ভোর ৭টার দিকে কাউনিয়া থানা পুলিশ এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।
নিহতদের ছেলে উজ্জল চন্দ্র বলেন, বাবা রবীন্দ্র দুই-তিন বছর ধরেই মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মাঝে মধ্যেই এরকম করত কিন্তু রাতে হঠাৎ মাকে ধারালো দা-ছুরি দিয়ে এলোপাতারি কোপ দিতে থাকে। মাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার চাচাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
কাউনিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ফরহাদ মন্ডল বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
