মন সবসময় সবার একরকম থাকে না। মাঝেমধ্যে অকারণেই মন খারাপ লাগে। আবার সময়ের সঙ্গে তা ঠিক হয়ে যায়। অল্পবিস্তর মন খারাপ হওয়ার এই বিষয়টি স্বাভাবিক। তবে মন খারাপের বিষয়টি যখন জীবনে বাজে প্রভাব ফেলে তখন এটি রোগের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
একটি জটিল মানসিক সমস্যা মুড ডিজঅর্ডার। মন খারাপের বিষয়টি যখন আর জটিল আর দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন তাকে ডাক্তারি পরিভাষায় ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার বলে। এর নানা দিক, নানা লক্ষণ রয়েছে। এমনই একটি মুড ডিজঅর্ডার হলো বাইপোলার ডিজঅর্ডার।
বাইপোলার ডিজঅর্ডার কী?
এই নামটি অনেকেরই শোনা। কিন্তু রোগটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নেই অনেকেরই। হিসেব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশ অর্থাৎ ৮ কোটি মানুষ বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। এদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষেরই ভুল রোগ নির্ণয় হয়েছে।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয়েছে তারা ডিপ্রেশনের শিকার। কিন্তু সাধারণ অবসাদ বা ডিপ্রেশনের সঙ্গে বাইপোলার ডিজঅর্ডারের পার্থক্য রয়েছে। এই ভুল এড়াতে রক্ত পরীক্ষা সাহায্য করতে পারে।
বাইপোলার ডিসঅর্ডার মূলত এক মনের অসুখ। বিভিন্ন কারণে মানুষকে হতাশা গ্রাস করতে পারে। পারিবারিক ইতিহাস থাকলেও একজন ব্যক্তি এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সমস্যা হলো, প্রাথমিক স্তরে বাইপোলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মনে করা হয় রোগী ডিপ্রেশনে ভুগছেন। সেই অনুযায়ীই চিকিৎসা করা হয়।
কীভাবে বুঝবেন কেউ বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত?
এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো-
বিষণ্ণ মন
যেকোনো কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা
ওজন অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া অথবা কমে যাওয়া
ঘুম বেড়ে যাওয়া কিংবা অনিদ্রায় ভোগ
আরও পড়ুন- হতাশা কমাতে সাহায্য করে যে খাবারগুলো
নিজেকে মূল্যহীন মনে করা
অযথা অপরাধবোধে ভোগা
যেকোনো বিষয়ে চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা
সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা
আত্মহত্যা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা
কেউ যদি আপনাকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করে বা এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন আগ্রহ দেখায় তবে বুঝবেন তিনি বাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসা প্রয়োজন। নিজে এমন সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
