মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার, অনুষ্ঠিত হবে ৪৪ ভেন্যুতে - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার, অনুষ্ঠিত হবে ৪৪ ভেন্যুতে

জনবার্তা প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৪ ৩:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে একযোগে ১৯ কেন্দ্রের ৪৪ ভেন্যুতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক ঘণ্টার এ পরীক্ষা চলবে সকাল ১১টা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি পরীক্ষা পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এসব তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে, যার মোট আসন সংখ্যা ৫ হাজার ৩৮০টি। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে অনুমোদিত ৬৭টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে, যার মোট আসন রয়েছে ৬ হাজার ২৯৫টি।

প্রশ্নফাঁস বন্ধে ডিজিটালাইজেশন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘স্বচ্ছতা আনতে, শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অনিয়ম বন্ধ এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি মেডিক্যাল কলেজে বিগত কয়েক বছর অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হয়েছে। একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।’

তিনি জানান, এর আগে অনিয়ম রোধ এবং শিক্ষার্থীদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধের লক্ষ্যে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পথ বন্ধ হয়েছে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিতের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জনগণের মাঝেও ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। প্রশ্নপত্র বহনকারী ট্রাঙ্কে একটি ইলেক্ট্রোনিক ডিভাইস রয়েছে, যার মাধ্যমে অধিদফতর থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া কার্যক্রম মনিটরিং করা হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী ও দায়িত্বরতদের নির্দেশনা
ভর্তি পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় হলের গেট খুলবে। এদিন সকাল সাড়ে ৯টার পর কোনও পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্রের রঙিন প্রিন্ট কপি নিয়ে আসবেন।

কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের (ছেলে ও মেয়ে) পৃথক পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। পরীক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র ও বল পয়েন্ট কলম ছাড়া অন্য কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে যাতে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য মেটাল ডিটেক্টরের পাশাপাশি আর্চওয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রবেশের বিষয়টি তদারকি করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে ইনভিজিলেটররা (কক্ষ পরিদর্শক) সকাল ৮টা থেকে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত কক্ষে অবস্থান করে প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীর ছবির জলছাপ ও রঙিন ছবির সঙ্গে পরীক্ষার্থীর চেহারা মিলিয়ে পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

পরীক্ষার্থী, ইনভিজিলেটর ও ভেন্যুর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের কর্মকর্তারা কোনোভাবেই মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্লু-টুথ, এয়ারফোন, ইত্যাদি বহন করবেন না। পরীক্ষার হলে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িত কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বা ভেন্যুতে ভর্তি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ছাড়া অন্য কোনও ব্যক্তি প্রবেশ করতে পারবেন না।

ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, ‘গত ১০ জানুয়ারি থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে মেডিক্যাল ভর্তি কোচিংয়ের সেন্টারগুলো বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন কোচিং বন্ধ ও সাইবার অপরাধ রোধকল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রগুলোর আশপাশের ফটোকপি মেশিন বন্ধ থাকবে। পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনও ধরনের অসদাচরণ বা প্রতারণা বা গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত কাউকে চিহ্নিত করা গেলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’