বেনজীর-আজিজরা সরকারের ক্ষমতার সিকিউরিটি গার্ড: রিজভী - জনবার্তা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেনজীর-আজিজরা সরকারের ক্ষমতার সিকিউরিটি গার্ড: রিজভী

জনবার্তা প্রতিবেদন
জুন ৯, ২০২৪ ৩:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বেনজীর-আজিজরা সরকারের ক্ষমতার দখলদারিত্বের সিকিউরিটি গার্ড বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রোববার (৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘আপনাদের আজকের দখলদারিত্বের যে ক্ষমতা, এই ক্ষমতার প্রহরী বা সিকিউরিটি গার্ড এই বেনজীর ও আজিজ সাহেবরা। আপনি তাদের দম্ভে এবং তারা যে জনগণের ওপর দমননীতি চালিয়েছেন সেটা তো আজকে সর্বজনস্বীকৃত। জাপানের অ্যাম্বাসেডর বলেছেন রাতের অন্ধকারে ২০১৮ সালের নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন কারা করেছে এই আজিজ সাহেব এবং বেনজীর সাহেবরা করেছেন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘মানুষ মনে করে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের নৈতিকতা একটু উচ্চমানের হয়। তাদের সময় আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ হয়। কিন্তু এই আজিজ সাহেবের মতো লোক সেনাবাহিনীর প্রধান হন কী করে? এটাই তো বিস্ময়কর ব্যাপার।’

রিজভী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদের বিষয়ে ঐতিহাসিক মন্তব্যগুলো কী ছিল বেনজীর আহমেদের? কত ধমক কত হুমকি তিনি তখন বলেছিলেন অস্ত্র দেওয়া হয়েছে আপনাদেরকে কী হাডুডু খেলার জন্য। প্রধানমন্ত্রী আপনার যদি ন্যূনতম মানবতাবোধ থাকত, দেশে যদি আইনের শাসন থাকত, সেই দিনই তো আপনি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করতেন। উনি প্রকাশ্যে এই দেশের নাগরিক বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। আপনি তখন তাকে গ্রেফতার করেননি কারণ আপনার অবৈধ ক্ষমতার তারা ছিল রক্ষক। আর এই রক্ষক হতে গিয়ে তারা যে কত ভক্ষণ করেছে সেটা এখন দেখা যাচ্ছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করেছে অনেক স্বাধীনতাযোদ্ধা আমরা তাদেরকে স্মরণ করি। ব্রিটিশ আমলেও কোন উচ্চ পর্যায়ের সরকারি চাকরি পেতে হলে তার ১৪ পুরুষের মধ্যে কেউ ফৌজদারি আইনে দণ্ডিত আছে কি না তা দেখা হতো। যদি দেখা হতো ফৌজদারি আইনে কেউ চোর, ডাকাত, তাহলে চাকরি পেত না, যতই ভালো রেজাল্ট করুক। পূর্বপুরুষ যদি চোর ডাকাত হয় তাহলে সে চাকরি পাবে না। আর জেনারেল আজিজ তাহলে কী করে চাকরি পেলেন? এটা তো আজকে একটা বড় ধরনের প্রশ্ন জনগণের। আপনি প্রধানমন্ত্রী মনে করেছেন আমার জনগণ লাগবে না ভোট লাগবে না নির্বাচন লাগবে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথাটা আমি মাটির মধ্যে মিশিয়ে দেব।

রিজভী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পরে এই আজিজ সাহেব বলেছিলেন স্বাধীনতার পরে নাকি এত সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি অর্থাৎ যে নির্বাচন ২০১৮ সালের নিশিরাতে হয়েছিল যে নির্বাচনকে দেশের মানুষ মিডনাইটের নির্বাচন বলে সেই নির্বাচনকে তিনি তকমা দিলেন স্বাধীনতার পরে সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন। শেখ হাসিনা আজিজ বেনজীরদের প্রটেকশন দিয়েছে তারা শেখ হাসিনাকে প্রটেকশন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনাদের নিপীড়ন গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ক্রসফায়ারের ভয়ে গণমাধ্যম কর্মী, রাজনৈতিক দল আপনাদের দুর্বৃত্তপনা, লুন্ঠন ও জনগণের বিরুদ্ধে আক্রমণের বিষয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায়নি। একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক বলেছেন আমরা অনেক কিছুই জানতাম কিন্তু লেখার সাহস পাইনি প্রকাশ করতে আমরা ভয় পেয়েছি। কারণ আমাদের পাশে সরকার থাকবে না সরকার থাকে বেনজীরদের পক্ষে সরকার থাকে আজিজদের পাশে।’

রিজভী বলেন, এত বড় একটি ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের ঘর উড়ে গেল মানুষের চাল উড়ে গেল, সুন্দরবনের হরিণ ভেসে গেল দেড় লক্ষ বাড়িঘর আপনার ধ্বংস হয়ে গেল কয়জন মন্ত্রী সেখানে গেছে?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন বিশ্বের বর্তমান যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতি অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে বাজেট সেইভাবে দিতে হয়েছে উপায় নাই। বিশ্বের পরিস্থিতি কী ভাই? আপনার মন্ত্রী আত্মীয়-স্বজন আপনার ব্যবসায়ী ঘনিষ্ঠজনরা যত টাকা লুট করেছে এই টাকা তো বাংলাদেশে নেই পাচার করেছে। না হলে ১ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা ঋণখেলাপি হয় কী করে? বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা বলেন বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে কোথাও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তো মুদ্রাস্ফীতি বাড়েনি। যুদ্ধের পরেও ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি হয়নি আমেরিকায় বেকারত্বের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

সংগঠনের সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন।