পুলিশের ক্ষমতা বাড়াল সুইডেন, সীমান্তে কড়াকড়ি - জনবার্তা
ঢাকা, বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পুলিশের ক্ষমতা বাড়াল সুইডেন, সীমান্তে কড়াকড়ি

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ৩, ২০২৩ ১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জনসমক্ষে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বের প্রবল নিন্দার মুখে পড়েছে ইউরোপের দেশ সুইডেন। নতুন আইন প্রণয়ন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। এটি আজ বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।

এর আগে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন মঙ্গলবার ঘোষণা দেন যে, বৃহস্পতিবার থেকে চালু হবে একটি নতুন আইন। এই আইন কার্যকর হলে পুলিশের ক্ষমতা বাড়বে। সীমান্তে কড়াকড়িও বাড়বে। বাড়ানো হবে ইলেক্ট্রনিক নজরদারিও। খবর ডয়চে ভেলের

দেশটির সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ সুইডেনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে, যাতে তারা দেশে ঢুকে কোনো অপরাধ সংগঠিত করতে না পারে।

সম্প্রতি ডেনমার্ক ও সুইডেনে কোরআন পোড়ানো হয়, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। দেশগুলোর প্রতি এমন ধরনের কাজ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ব। সুইডিশ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার এমন প্ররোচনা দেশের জন্য বড় বিপদ বয়ে আনতে পারে।

এসব ঘটনার কারণে দেশে যেন কোনো সহিংস ব্যক্তিরা ঢুকতে না পারেন সেই জন্য এমন আইন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী।

সুইডিশ ও ডেনিশ দুই কর্তৃপক্ষই একদিকে বাকস্বাধীনতা ও অন্যদিকে ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় বেগ পাচ্ছে। ক্রিস্টেনসন একাধিকবার বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীল আচরণের কথা স্মরণ করিয়েছেন। তবে পবিত্র কোরআন পোড়ানোকে তারা বাকস্বাধীনতা বললেও যুক্তরাষ্ট্রসহ গোটা বিশ্বই জানিয়েছে যে, ধর্মগ্রন্থ পোড়ানো বাকস্বাধীনতা হতে পারে না।

মুসলিম দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ধর্ম অবমাননা ও কোরআন পোড়ানোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। শুরুতে এই দাবিকে সরাসরি খারিজ না করলেও, গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার উদাহরণ দিয়ে এখন দেশের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছে সুইডেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে যা কিছু বৈধ, তা সব সময় সঠিক নয়। বৈধ হলেও তা খুবই খারাপ।

সোমবার অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি) একটি অনলাইন বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে। যেসব দেশে এমন আচরণ বৈধ, সেই দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের বাঁধন আলগা করার অনুরোধ করে ৫৭টি সদস্য রাষ্ট্রকে। জাতিসংঘের হস্তক্ষেপেরও দাবি তোলে সংস্থাটি।

মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ক্রিস্টেনসন বলেন যে, সুইডেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এত বড় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে কখনো থাকেনি।

বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে সুইডেনের ন্যাটো সদস্য পদ পাওয়ার বিষয়টিও। তুরস্ক যদিও ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য সুইডেনকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। তারপরও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সুইডেনের ঝুঁকি থেকেই যায়। কারণ পবিত্র কোরআন পোড়ানোর বিষয়টি বারবার ঘটতে থাকলে মত পাল্টাতে পারে এরদোয়ান প্রশাসন।