কেউ গায়ে হাত তুললে দলের নেতা-কর্মীদের পাল্টা হাত তুলতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, অন্যায়কারীদের প্রতিরোধ করার জন্য হাত তোলা নৈতিক দায়িত্ব। পুলিশ-প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিএনপির এই নেতা বলেছেন, ‘হাত চালানোর আগে সাবধানে চালাবেন। আমরাও হাত গুটিয়ে থাকব না। আমাদের দাবি আমরা আদায় করব।’
আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা ও বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের তৃতীয় কর্মসূচি হিসেবে আজ নয়াপল্টনে এই সমাবেশ করে বিএনপি। অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই দাবিতে সমাবেশ করেছে সরকারবিরোধী আরও কয়েকটি জোট।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এমনকি প্রশাসনের লোকদের সরকার ঘুষ দেয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে গাদায় গাদায় টাকা পুলিশের এসপি, ডিআইজিকে দিয়েছে। যে সরকার প্রশাসনের লোকদের ঘুষ দেয়, সেই সরকারের নৈতিক অধিকার নেই কারও দিকে আঙুল তোলার। কারণ, প্রশাসন ও সরকার যৌথভাবে দেশে লুটপাট করছে, দুর্নীতি করছে।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, রক্তচক্ষু, মামলা, মোকাদ্দমা, খুন, গুম ও ফাঁসি—এসব শব্দ উচ্চারণ করে দেশপ্রেমিক নাগরিকদের থামিয়ে রাখা যাবে না। মামলা–মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে লাখ নেই। আর গুম–খুনের ভয় দেখিয়ে লাখ নেই। জনগণ এই সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। রুখে দাঁড়াবে।
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, তাদের (আওয়ামী লীগ) চুরির জন্য বাংলাদেশের মানুষকে বিদ্যুতের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে টাকা চুরি করছে, জনগণের পকেট কাটছে, সেই টাকা তারা বিদেশে পাচার করছে। এখন দুবাই, লন্ডন, কানাডাসহ সারা বিশ্বে তাদের হিসাব বের হচ্ছে।
আমীর খসরু আরও বলেন, গ্রেপ্তার করে, জেলে পাঠিয়ে, গায়েবি মামলা দিয়ে, মিথ্যা মামলা দিয়ে, বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে আন্দোলন থামানোর সুযোগ নেই।
আর প্রতি মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করাকে ক্ষমতাসীনদের চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছেন দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘অনেক সহ্য করেছি, আর না। শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে যদি এক বেলা ভোট হয়, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিততে পারবে না, তাই আগের রাতে ভোট করে নেওয়া হচ্ছে।’
