‘নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে যুক্তরাষ্ট্র’ - জনবার্তা
ঢাকা, বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে যুক্তরাষ্ট্র’

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ৯, ২০২৩ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কোনো দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়া ছাড়াও দুর্নীতিবাজদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া অংশীদার দেশগুলোকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যেন ওইসব দেশ এ ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (প্রসিকিউট) নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের জবাবে প্রশ্নের এ কথা বলেন মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। এ ছাড়া বাংলাদেশকে তার সীমানার মধ্যে থাকা দুর্নীতিবাজদের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্মূল করতে উৎসাহিত করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈশ্বিক দুর্নীতি দমন বিভাগের সমন্বয়ক রিচার্ড নেফিউয়ের সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে এক সাংবাদিক জানতে চান- সফরকালে নেফিউ সরকারের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার সফরের সময়টাতে এস আলম গ্রুপের মালিক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের বিদেশে টাকা পাচার নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। সাইফুল আলম, যিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সহযোগী, তিনি বিদেশে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পাচার করে নিজের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন। স্টেট ওয়াচ ডটনেট এবং ওসিসিআরপি তাদের রিপোর্টে একই রকমভাবে বাংলাদেশে অন্যদের ব্যাপক দুর্নীতি এবং টাকা পাচারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

ওই সাংবাদিক বলেন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার সঙ্গে বৈঠককালে নেফিউ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যারা দুর্নীতি এবং টাকা পাচারের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কি তাদের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে?

জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, এর আগে অন্য একটি দেশের প্রসঙ্গে আমি বলেছি- নিষেধাজ্ঞা দেবার আগে আমরা বিষয়টি নিয়ে কখনো কথা বলি না। সাধারণ অর্থে এ কথাটা বলা হয়ে থাকে যে, নিষেধাজ্ঞাকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর বাইরে আমাদের আরও কিছু হাতিয়ার রয়েছে, যেমন- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, মিত্র দেশগুলোকে এ বিষয়ে আমরা তথ্য দিয়ে থাকি, যেন তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা (প্রসিকিউট) নিতে পারে।

ম্যাথিউ মিলার বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকারকে বলব, তারা যেন নিজে দেশের দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করে। আর সেটা যেন হয় সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ পন্থা অবলম্বন করে।

বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সামনে গতকাল মঙ্গলবার হওয়া বিক্ষোভের বিষয়টি উল্লেখ করে এ বিষয়ে মিলারের অবস্থান জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে ম্যাথিউ মিলার বলেন, বহুবার আমি এ বিষয়ে পরিষ্কার করেছি। এই মঞ্চ থেকে অনেকবার বলেছি, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সমর্থন করি আমরা। প্রকাশ্যে আমরা এ কথা বলেছি। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনাকালে আমরা এটা পরিষ্কার করেছি এবং তা করে যাব। এটা আমাদের নীতি।