আজ সোমবার খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগ দিতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ ব্যাপক আয়োজন করেছে। যশোর থেকে লাখো মানুষ নিয়ে জনসভায় অংশ নিতে ১১টি স্পেশাল ট্রেন ও ১ হাজার গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী যশোর রেল স্টেশনে জমায়েত হন। তবে এসময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় নিয়মিত রেল যাত্রীদের। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করে তবে একটি ট্রেনের দেখা পান যাত্রীরা।
যশোর রেল স্টেশনে অবস্থানকালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আজ খুলনায় আয়োজিত জনসভায় আমরা এক লাখ লোক নিয়ে অংশগ্রহণ করব। এই জনসভা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেবে আগামী নির্বাচনে খুলনা বিভাগের সকল আসনেই আওয়ামী লীগ জয়ী হবে।
তিনি জানান, যশোর থেকে খুলনা জনসভায় অংশ নিতে ১১টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে যশোর স্টেশন থেকে ছাড়বে ৪টি, অভয়নগর থেকে ৪টি, ঝিকরগাছা থেকে ১টি ও বেনাপোল থেকে ২টি ট্রেন। যশোর থেকে সকাল ৯টার কিছু পরে ছেড়ে যায় স্পেশাল ট্রেনের প্রথমটি। পৌনে ৯টার দিকে যশোর স্টেশন হয়ে যায় বেনাপোলের স্পেশাল টেনের একটি। এসময় যশোর স্টেশনে অপেক্ষমাণ ছিল আরও একটি স্পেশাল ট্রেন।
এদিকে আওয়ামী লীগের জনসভার স্পেশাল ট্রেনের কারণে সিডিউল বিপর্যয় ঘটে রেলওয়ের নিয়মিত ট্রেনগুলোর। যে রূপসা ট্রেন খুলনা থেকে ছেড়ে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যশোর স্টেশনে আসার কথা ছিল তা আসে সকাল ১০টা ৯ মিনিটে। এ প্রায় দুই ঘণ্টা যাত্রীদের স্টেশনে অপেক্ষায় থাকতে হয়। অনেকেই এতে বিরক্তি প্রকাশ করেন।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে অপেক্ষায় থাকা শিবানী সাহা বলেন, বসে থাকতে থাকতে তার অসুস্থ স্বামী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। আর বসে থাকতে চাইছেন না।

তিনি জানান, তার বাড়ি নাটোর। কোলকাতা থেকে স্বামীর চিকিৎসা করিয়ে গতকাল রোববার যশোরে আসেন। রাত যাপন করে সকালে এসেছেন ট্রেনে করে বাড়ি ফেরার জন্য। অপর দিকে টিকিট কাউন্টার থেকে দুপুর আড়াইটার আগ পর্যন্ত দেওয়া খুলনায় যাওয়ার কোন টিকিট দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। অথচ বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেনের সকাল সাড়ে ১০টায় যশোরে পৌঁছানোর কথা ছিল। সেই ট্রেনের অনেক যাত্রী যশোর স্টেশন থেকে ওঠেন।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের মমতাজ বেগম ওই ট্রেনে যেতে চেয়েছিলেন বাড়ি। স্টেশনে আসার পর টিকিট কাটতে গিয়ে পাননি। তিনি বলেন, আগে জানতে পারলে আজ আসতাম না। অপেক্ষমাণ যাত্রীরা কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের কাছে গিয়েও কোন সদুত্তর পাননি এ সময়।
জানতে চাইলে কর্তব্যরত সহকারী স্টেশন মাস্টার হাসিনা হাসান বলেন, কখন ট্রেন আসবে জানি না।
স্টেশন মাস্টার আয়নাল হোসেন বলেন, স্পেশাল ট্রেনের ফাকে ফাকে সিডিউল অনুযায়ী ট্রেন আসবে। রূপসা ট্রেনের দেরির বিষয়ে তিনি বলেন, ওটা খুলনা থেকেই দেরি করে ছাড়ছে। বাকি ট্রেনগুলো আপাতত অমিট করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
