বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী নায়েব আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান বলেন, সরকার জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। গুম-খুন ও হামলা-মামলা দিয়ে বিরোধী মতের লোকদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানবাধিকার, ভোট ও ভাতের অধিকারসহ সকল অধিকার থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলের শতশত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দেয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদেরকে বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক মামলাসমূহ হীনউদ্দেশ্যে সচল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সর্বত্র অরাজকতা বিরাজ করছে। দমন-পীড়ন চালিয়ে জনগণের আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মুখে বর্তমান জুলুমবাজ সরকারের পতন হবে ও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ। অবিলম্বে অন্যায় গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতাকর্মী ও আলেম-উলামাদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এ সময় খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান, হরিণটানা থানা আমীর আব্দুল গফুর, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন।
‘জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন হবে ও
কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে’
অধ্যাপক নজিবুর রহমান
অধ্যাপক নজিবুর রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ারসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। দেশব্যাপী জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর গ্রেফতার নির্যাতন চালানো হচ্ছে। নির্দলীয়-নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া দেশে আর কোনো পাতানো নির্বাচনের ফ্যাসিবাদী স্বপ্ন জনগণ পূরণ হতে দিবে না। ইতিহাস স্বাক্ষী হামলা-মামলা, গ্রেফতার-নির্যাতন, জেলা-জুলুম চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবেনা। সরকারকে অবশ্যই ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ পরিহার করে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে হবে। আমীরে জামায়াতসহ কারান্তরীণ সকল নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে হবে এবং দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় দেশপ্রেমিক জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারকে লজ্জাজনকভাবে বিদায় নিতে হবে।
