খুলনা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের গণমিছিল - জনবার্তা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের গণমিছিল

জনবার্তা প্রতিবেদন
আগস্ট ৭, ২০২৫ ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেছেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের প্রতি শ্রমজীবী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন শত প্রতিকূলতার মাঝেও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে আন্দোলন চালিয়েছে। এক মুহূর্তের জন্যও রাজপথ থেকে সরে যায়নি। শুধু আন্দোলন সংগ্রামই নয়; শ্রমিকদের যে কোনো প্রয়োজনে দুর্যোগে দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে সুদৃঢ় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বিভেদের রাজনীতির কবর রচনা করতে হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। তিনি বলেন, দেশে চলমান অন্যায় দুর্নীতি দমন-পীড়ন ও স্বাধীনতার হরণের বিরুদ্ধে আপামর জনসাধারণ একত্রিত হয়ে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছে। এই বিপ্লবের মূল চেতনা হলো বৈষম্যহীন দূর্ণীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গঠন করা। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে শ্রমিকসহ জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে ইসলামী মূল্যবোধ ও ইনসাফ নিশ্চিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে খুলনা মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ে গণমিছিলে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

মহানগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. সাইফুজ্জামানের পরিচালনায় মহানগরী সহ-সভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন, কাজী মাহফুজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক বুলবুল কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক খান আব্দুল ওহেদ, দপ্তর সম্পাদক আল হাফিজ সোহাগ, শ্রমিক নেতা হেলাল উদ্দিন, নুরুল হক, আলী হায়দার নিরু, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম, আব্দুল বারেক, আসলাম সিকদার, জুনায়েদ খান, কামাল হুসাইন, অধ্যাপক শাহিনুল ইসলাম, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, আসাদুজ্জামান, শাহজাহান, আসলাম শিকদার, আব্দুল বারেক, হেলাল উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, বদরুর রশীদ মিন্টু, রবিউল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, তরিকুল ইসলাম, আব্দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, গত ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দসহ দেশের জাতীয় নেতৃত্বকে হত্যার ষড়যন্ত্র, গুম, খুন ও লুটতরাজের মধ্য দিয়ে এক ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সাধারণ ছাত্র-জনতার জীবন দিয়ে যে ‘জুলাই বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছিল, তা ছিল একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। তিনি আরও বলেন, এই বিপ্লবের চেতনা অক্ষুন্ন রাখতে শ্রমিকরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাচ্ছে। যারা অতীতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, তারা নিজেরাই আজ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত ও বিতাড়িত। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রথম বার্ষিকীতে আমাদের প্রত্যয় হোক যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছেন আমরা তাদের স্বপ্ন বৃথা হতে দেবো না। আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবো। জুলাই গণহত্যার সাথে জড়িতদের দ্রæত বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন নেতৃত্ব, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য। এই ধরনের নেতৃত্ব সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেই নৈতিকতা সম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরির কাজ করছে।