খুলনা বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমাসে নিহত ৫০ জনের বেশি - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

খুলনা বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমাসে নিহত ৫০ জনের বেশি

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ২৫, ২০২৫ ১২:২৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনা বিভাগের দশটি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক বছরে এই অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬ শতাধিক মানুষ। অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি, যানবাহনের ত্র“টি এবং ট্রাফিক আইন না মানার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা বিভাগের দশটি জেলায় মোট ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৬১৪ জন। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ সড়কে নিহত হচ্ছেন। এই এক বছরে দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে প্রায় ৮৯২টি যানবাহন।

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির দিক থেকে খুলনা বিভাগের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যশোর ও কুষ্টিয়া জেলা। এই এক বছরে যশোর জেলায় ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৭ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১০৩টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১০০ জনের। এছাড়া ঝিনাইদহে ৮৪টি দুর্ঘটনায় ৮৩ জন, সাতক্ষীরায় ৩৯ দুর্ঘটনায় ৫০ জন এবং খুলনায় ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। গত এক বছরে মোট ২৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯৩টি এবং বাস ও মিনিবাসে ৮৭টি যানবাহন।

বিআরটিএ’র খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, খুলনা বিভাগে সব থেকে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায়। তিনি জানান, মোটরসাইকেলের কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে।

বিআরটিএ খুলনা বিভাগের পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সতর্কতা সব থেকে বেশি প্রয়োজন। পাশাপাশি গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ভাঙাচোরা রাস্তার দ্রুত সংস্কার এবং আঁকাবাঁকা মোড়গুলোতে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। তিনি যাত্রী ও চালকদের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক অবকাঠামোর ত্র“টি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ না হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে। দ্রুত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এই হার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।