গাজায় হত্যাযজ্ঞ, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা - জনবার্তা
ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাজায় হত্যাযজ্ঞ, বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের তীব্র নিন্দা

জনবার্তা প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৮, ২০২৩ ১:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসের বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলে নির্বিচারে ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের হত্যা করছে তারা। সর্বশেষ গাজার একটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচ শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরাইলি নৃশংসতার চরম রূপ দেখছে বিশ্ব। আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো কিছুই বাদ যাচ্ছে না তাদের হামলা থেকে। হামলা চালানো হয়েছে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার খাদ্য গুদামেও। খবর আল জাজিরার

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ফিলিস্তিনের গাজার একটি হাসপাতালে একাধিক বিস্ফোরণ হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজা শহরের কেন্দ্রস্থল আল-আহলিল আরব হাসপাতালে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ৫০০ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা গুরতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা থেকে বাঁচতে গাজার বহু বাসিন্দা ওই হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এছাড়া আগে থেকেই সেখানে ভর্তি ছিলেন আহত শত শত রোগী। হামলায় হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত। হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলার এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।

মঙ্গলবার গাজা উপত্যকার আল-মাগাজি শরনার্থী শিবিরেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এ বিষয়ে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরনার্থীবিষয়ক সংস্থা জানায়, একটি স্কুলে হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতদের অবস্থা গুরতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্কুলটিতে অন্তত ৪ হাজার ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

হাসপাতালে হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের পরপরই গাজায় হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এই হামলাকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে কেউ চুপ থাকতে পারে না। এভাবে সাধারণ মানুষকে হত্যা মানবতার জন্য লজ্জাজনক।’

মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী ‘জঘন্য অপরাধ’ করেছে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সৌদির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বোমা হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতারও।

এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ‘ইসরাইল ন্যুনতম মানবিক মূল্যবোধেরও তোয়াক্কা করছে না।’ গাজার আল-আহলি হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল–সিসি।

চলমান সংঘাতের শুরু থেকেই ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকা ইরানও গাজায় হাসপাতালে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েলি বাহিনী নির্বিচার বিমান হামলা চালিয়ে গাজার নিরস্ত্র ও অসহায় মানুষদের হত্যা করছে। জঘন্য এই অপরাধের মাধ্যমে ইহুদি এই রাষ্ট্রটি আরও একবার বিশ্বের সামনে তাদের অমানবিক ও পাশবিকাতেই তুলে ধরেছে।’

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও এই হামলাকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে নৃশংস, জঘন্য, রক্তক্ষয়ী গণহত্যাগুলোর একটি’ অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। গাজার হাসপাতালের হামলার নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ।

এদিকে, গাজার হাসপাতালে হামলার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসার জন্য অনুরোধ করেছে স্থানীয় সদস্য রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। গাজার হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানম ঘেব্রেয়াসুস। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গাজায় হাসপাতালে হামলার ঘটনাকে ‘ভয়ংকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। এমন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, মানবাধিকবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় নিহতের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। নিহতদের এক তৃতীয়াংশই শিশু। গুরুতর আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জন। ইসরায়েলে মৃতের সংখ্যা ১৪০০ জনে পৌঁছেছে।