মুন্সিগঞ্জে ছেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামীর ধারালো ছুরির আঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত স্বামী নাদিম হোসেনের মা ও বোনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জের চরকেওয়ার ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মুন্সিগঞ্জের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্ডার খায়রুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের নাম রোমানা আক্তার। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদরের বাঘাইকান্দি এলাকার রুহুল আমিনলনের মেয়ে এবং একই এলাকার নাদিম হোসেনের স্ত্রী।
রোমানা আক্তারের মা রানী বেগম অভিযোগ করে বলেন, গতকাল রোমানার দুই বছরের ছেলে রাফসানের জন্মদিন ছিল। জন্মদিন উপলক্ষে তাদের বাড়িতে (নানা বাড়ি) ঘরোয়া পরিবেশে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সে অনুষ্ঠানে রোমানার শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে দাওয়াত না দেওয়ায় রোমানার স্বামী নাদিম হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে শিশু রাফসানকে এক ঘরে আটকে রাখে। পরে রোমানা সেই ঘর থেকে রাফসানকে বের করে আনতে গেলে স্বামী নাদিম তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এ সময় রোমানা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় রোমানাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে স্বজনরা দ্রুত মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের গলায় কয়েকটি ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়।
মুন্সিগঞ্জের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্ডার খায়রুল হাসান জানান, পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনায় স্বামী নাদিম হোসেন তার স্ত্রী রোমানা আক্তারকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী নাদিম হোসেনের মা আসমা বেগম ও বোন আঁখি বেগমকে আটক করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
