ধর্মশালার উইকেটে বাড়তি সুবিধা পাবেন পেসাররা, এমন ধারণা থেকেই তিন পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই উল্টো। নতুন বলে, সকাল বেলায়ও বাড়তি কোনো সুবিধা পাননি তাসকিন আহমেদ-শরিফুল ইসলামরা। মাঠে নেমে উইকেট পড়তে অবশ্য সাকিবের খুব বেশি সময় লাগেনি। ফলে পাওয়ার প্লেতেই স্পিন আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। তাতেই সফল। সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে শেষ পর্যন্ত দুইশোর আগেই আটকে গেল আফগানরা।
শনিবার ধর্মশালায় টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৭ ওভার ২ বলে ১৫৬ রান তুলে অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। দলের সর্বোচ্চ ৪৭ রান এসেছে রহমানুল্লাহ গুরবাজের ব্যাট থেকে। ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও সাকিব আল হাসান।
ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালোই করেছিলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরান। টাইগার বোলারদের দেখেশুনে খেলে স্কোরবোর্ডে রান তুলেছেন দ্রুত। এই দুই আফগান ওপেনারদের বিপক্ষে সুবিধা করে ওঠতে পারছিলেন না তাসকিন, শরিফুল, মুস্তাফিজরা।
এরপর নবম ওভারে বল হাতে আজ নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসেই ব্রেক থ্রু এনে দেন টাইগার অধিনায়ক। তার করা দ্বিতীয় বলে ২২ রান করে সাজঘরে ফিরেন ইব্রাহিম। ২৫ বলে ৩ চার এবং ১ ছয়ে ২২ রান করে এই আফগান ওপেনার সাজঘরে ফিরলে ভাঙে ৪৭ রানের ওপেনিং জুটি।
ইব্রাহিম ফিরলে ক্রিজে গুরবাজের সঙ্গী হন রহমত শাহ। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলে আবার এগিয়ে যাচ্ছিলেন বড় জুটি গড়ার দিকে। জুটি গড়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৩৬ রান। তবে ষোলতম ওভারে বোলিংয়ে এসেই ফের আঘাত হানেন সাকিব। ওভারের প্রথম বলেই লিটনের ক্যাচে পরিণত হন রহমত। সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে করেছেন ১৮ রান।
এদিকে এক প্রান্তে যাওয়া আসার খেলা চলতে থাকলেও অপরপ্রান্তে ধরে খেলছিলেন আফগান ওপেনার গুরবাজ। টাইগার বোলারদের দেখেশুনে খেলে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যক্তিগত অর্ধ শতকের দিকে। তবে মুস্তাফিজের বলে তানজিদ তামিমেদ দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে ফিরে গেছেন ৪৭ রান করেই। এর আগের ওভারে ৩৮ বলে ১৮ রান করা আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহর উইকেট তুলে নিয়েছিলেন মেহেদী মিরাজ। এরপর ২৯ তম ওভারে বোলিংয়ে এসে নাজিবুল্লাহ জাদরানকে বোল্ড আউট করেছেন সাকিব।
এরপরে আর আফগানদের দলের হাল ধরতে পারেননি কেউই। মিরাজের স্পিন জালে ব্যর্থ হয়েছেন রশিদ, মুজিবরা। বাংলাদেশের হয়ে আজ সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন সাকিব এবং মিরাজ।
