চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় কিস্তির টাকা পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে তার বাবা। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত মর্জিনা খাতুন (৪০) দামুড়হুদা উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আজিজুল হকের মেয়ে। এ সময় মাকে বাঁচাতে এসে গুরুতর আহত হয়েছে মর্জিনা খাতুনের মেয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রোকসানা খাতুন (১৩)। আহত রোকসানা খাতুনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, স্বামী পরিত্যক্তা মর্জিনা খাতুন বাবার বাড়িতেই থাকতেন। দরিদ্র হওয়ায় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে যৌথভাবে ঋণ নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করেন আজিজুল হক ও তার মেয়ে মর্জিনা খাতুন। শনিবার রাতে ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাত ২টার দিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মর্জিনা খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন বাবা আজিজুল হক। এ সময় মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয় শিশু রোকসানা খাতুন। পরে মর্জিনা ও তার মেয়ে রোকসানাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেন স্থানীয়রা। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মর্জিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যান মর্জিনা খাতুন। আহত রোকসানাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবীর জানান, মর্জিনা খাতুনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে গেছে ঘাতক আজিজুল হক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
