রাজধানীর মিরপুর কমার্স কলেজের সামনের সড়কে বিদ্যুতায়িত হয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ ৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এসময় ওই পরিবারের ৭ মাস বয়সী শিশু হোসাইন মোহাম্মদ প্রাণে বেঁচে যায়। বাবা মাকে হারিয়ে অনবরত কান্না করেই চলেছে। থামানো যাচ্ছে না কোনোভাবেই শিশু মোহাম্মদ হোসাইনের। নিজের চার পাশে শুধু বাবা মাকে খুঁজছে অবুঝ শিশুটি।
শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝালকাঠির সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগলপাশা গ্রামে হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। মা হারানো শিশু হোসাইনের গগণবিদারী চিৎকারে ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ-বাতাস। শিশুর কান্না শুনে কাঁদছে পাড়া প্রতিবেশীরা। স্বজনদের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও হোসাইনের কান্না থামানোর চেষ্টা করছেন।
শিশু হোসাইনের ফুপু নাসরিন আক্তার জানান, কিছুতেই আমার ছোট বাবার কান্না থামছে না। আমার বাবা এখন আমার সঙ্গেই থাকবে। কিন্তু বাবা মায়ের অভাব কি করে পূরণ করব। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।
নিহত মিজান হাওলাদারের বাবা নাসির হাওলাদার বলেন, আমার ছেলে, ছেলের বউ, নাতনীর মরাদেহ শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠিতে নিয়ে এসেছি। সকাল ৯টায় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। আমার ৭ মাসের নাতি হোসাইন মোহাম্মদকে আল্লাহ আমাকে চিহ্ন হিসেবে রেখেছে। ওকে মানুষের মতো মানুষ করব।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেলে মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজ-সংলগ্ন ঝিলপাড় বস্তির সামনের সড়কে বিদ্যুতায়িত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। এরমধ্যে তিনজন একই পরিবারের। প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন নিহত মিজান-মুক্তা দম্পতির ৭ মাসের ছেলে হোসাইন।
