বরিশাল বিভাগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক চার নারীসহ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট ৬৫ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে একই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৪১৯ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের ৬ জেলার সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ১৬০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বরিশাল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ দাস এই তথ্য জানিয়েছেন।
মৃতরা হলেন, বরিশাল নগরীর কাউনিয়া এলাকার কাঞ্চন আলী (৬৩), সাগরদী এলাকার বাসন্তি (৫৫), বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার রুশিয়া (৫৭), বাকেরগঞ্জ উপজেলার আনোয়ারা বেগম (৭০), মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মনোয়ারা (৫৫), বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার নুরুল আমিন (৫৫) ও পটুয়াখালীর গলাচিপার বাকের হাওলাদার (৮০)। মৃতদের মধ্যে বাকের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা গেছেন। বাকি ৬ জন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বুধবার সকাল ০৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৪১৯ জন ডেঙ্গুরোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৯ জন বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ৪৭ জন পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই দুই হাসপাতালে বর্তমানে ৩৬৬ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ৪৭ জন, পটুয়াখালীতে ৫৯ জন, ভোলায় ৪৬ জন, পিরোজপুরে ৬৫, বরগুনায় ৬৭ ও ঝালকাঠিতে ৯ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ১৮ হাজার ১৮৫ ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৯৬০ জন। এদিকে চলতি বছর গোটা বিভাগে ৬৫ জন ডেঙ্গুরোগীর মৃত্যু হয়েছে। যারমধ্যে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪১ জন, পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জন, বরিশাল জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন, বরগুনায় হাসপাতালে ৫ জন, পটুয়াখালীতে ২ জন, পিরোজপুরের হাসপাতালে ৫ জন এবং ভোলায় হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
