টাকা ছাপালেই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান হয় না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক বিচারপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রউফ। তিনি বলেন, টাকশাল বাংলাদেশের সম্পদের ভাণ্ডার নয়। টাকা ছাপালেই অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধান হয় না। সমস্যার মূল থেকে এর সমাধান নিয়ে আসতে হবে এবং এই দায়িত্বটা তরুণ অর্থনীতিবিদদের।
শনিবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্তিত্বশীলতার প্রভাব এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণে উপায়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, পশ্চিমা ষড়যন্ত্রে আমাদের দেশের টাকার পরিমাণ বাড়লেও মূল্য কমে গেছে। অন্যদিকে বৃদ্ধি পেয়েছে দ্রব্যমূল্য। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে সে কথা সবাই বলে, টাকার মান কমেছে তা কেউ বলে না। টাকার অবমূল্যায়ন বন্ধে নতুন অর্থনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে।
সাবেক এই বিচারপতি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা টাকার যে মূল্য রেখে গেছে সেটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি। তাই এখন টাকা টয়লেট টিস্যুতে রূপান্তরিত হয়েছে। একটা সময় এক পয়সাতে অনেক কিছু পাওয়া যেত। আর এখন দশ টাকার কম ভিক্ষা দেওয়া যায় না। কম দামে পণ্য উৎপাদন করলে বিদেশি ক্রেতারা এখান থেকে পণ্য কিনবেন এই উদ্দেশ্যে টাকার মান কমিয়েও কেন সুফল আসছেনা। এত এত অর্থনীতি পড়ে টাকার মান খোয়ালাম কেন। বোকা জনগণ পেয়ে কিছু শ্রেণীর মানুষ অর্থনীতিকে পুঞ্জিভূত করে ফেলেছে। এই সমস্যার সমাধানে আমাদের অর্থনৈতিক ধারণা বা কনসেপ্ট গুলো বদলাতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
আবদুর রউফ বলেন, ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রে টাকার মান হারালেও সেখান থেকে ফিরে আসার জন্য কেউ কখনো কোনো চেষ্টা করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি হয়ে যায় কিন্তু এ কথা কেউ জানেনা। এরকমটা কিভাবে হতে পারে। বাঙ্গালীদের ইতিহাস চর্চা এবং গবেষণার মাধ্যমে টাকার মান বৃদ্ধি করতে সামনে এগিয়ে আসার জন্য নতুন অর্থনীতিবিদদের আহ্বান জানিয়েছেন মোহাম্মদ আবদুর রউফ।
রাজনীতি সম্পর্কে সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাংলাদেশের যতদিন নমিনেশন বাণিজ্য থাকবে ততদিন গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হবে না। ভালো ভালো কৌশল বা নীতি দিয়ে দেশ ও জনগণের উন্নয়ন করার নাম রাজনীতি। কিন্তু নেতাদের মাধ্যমে নীতি পরিবর্তন করার নাম রাজনীতি নয়। সকল রাজনৈতিক দলকে সমান অধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি বন্ধ না করলে গণতন্ত্র থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (বীর প্রতীক) বলেন, এই সরকার দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করার জন্য লুটেরাদের হতে ব্যাংকগুলো তুলে দিয়েছে। একবার বিনা ভোট, আরেকবার রাতের ভোট করেছে এবার কিভাবে ভোট করবে আমরা জানি না। তাদের বুদ্ধির সাথে সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছি না।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ার মির্জা আজম বলেন, আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই গণতন্ত্র চর্চা করতে পারিনি। ৭৩রে একটা নির্বাচন হয়েছিল তখনও ঢাকায় ব্যালট বাক্স এনে খন্দকার মোস্তাককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। আজকে ১৬ বার সংবিধান কাটাছেড়া করা হয়েছে। যার বিএনপি করেছে মাত্র ৩ বার। বাকি যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে তা জনগণের কাজে আসেনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) এর অধ্যাপক হাসানাত আলী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে। একটি বিশেষ গ্রুপের কব্জায় সাতটি ব্যাংক। বেআইনিভাবে ৮০ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছেন ব্যাংক থেকে। বিদেশে পাচার করেছেন টাকা। দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে গেলেও ৭২ বার পেছানো হয়েছে তার চার্জশিট দেওয়ার তারিখ। রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের নামে করা হয়েছে রাজনৈতিক লুটপাট। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। এই মুহূর্তে সরকার ঘোষণা করেছে পেনশন স্কিমের। যা কোনভাবে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
