তামাক সেবনে ৭০ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তামাক সেবনে ৭০ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি

জনবার্তা প্রতিবেদন
মে ৩১, ২০২৫ ২:৫৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস আজ শনিবার (৩১ মে)। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘তামাক কোম্পানির কূটকৌশল উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।’

এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংগঠনগুলো তামাকের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী অন্তত তিন কোটি ৭০ লাখ কিশোর-কিশোরী নিয়মিত তামাকপণ্য ব্যবহার করে। এই বিপুলসংখ্যক তরুণকে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রতি আসক্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলো চালায় নানা রকম কূটকৌশল। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধিযুক্ত তামাকপণ্য বাজারজাতকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় সেলিব্রেটিদের দিয়ে প্রচার চালানো, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা এবং শক্তিশালী আইন ও কর ব্যবস্থা প্রণয়নের বিরোধিতা করা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ২১ বছর বয়সের আগেই তামাকে আসক্ত হয়, তাদের মধ্যে নিকোটিন নির্ভরতা গড়ে ওঠে প্রবলভাবে এবং এই আসক্তি আমৃত্যু বহমান থাকে।

তামাকপণ্যের প্রভাব শুধু স্বাস্থ্যগত ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বন উজাড়ের প্রায় ৩১ শতাংশ দায়ী তামাক চাষ। গবেষণায় দেখা গেছে, কক্সবাজার ও বান্দরবানের তিনটি উপজেলায় তামাকপাতা শুকাতে (কিউরিং) এক বছরে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি কাঠ।

বর্তমানে পৃথিবীর ১২৫টিরও বেশি দেশের প্রায় চার মিলিয়ন হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে, যার বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ। বিশ্বজুড়ে উৎকৃষ্ট কৃষিজমি তামাকচাষে ব্যবহৃত হওয়ায় খাদ্য ফসলের জমি হ্রাস পাচ্ছে। অথচ এই জমিতে খাদ্য উৎপাদন করা গেলে লাখ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেত।

বাংলাদেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ মাত্র তিন কোটি ৭৬ লাখ ৭ হাজার একর। কিন্তু তামাকচাষে ব্যবহৃত জমির পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম। বিশ্বের মোট উৎপাদিত তামাকের ১.৩ শতাংশই আসে বাংলাদেশ থেকে।

তবে এই উৎপাদন ক্ষমতার পেছনে লুকিয়ে আছে করুণ বাস্তবতা। বাংলাদেশে তামাকজনিত অসুস্থতায় প্রতি বছর মারা যান প্রায় এক লাখ ৬১ হাজার মানুষ। তামাক মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি। শুধু চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মক্ষমতা হ্রাসজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা।

বিশেষজ্ঞের মতে, তামাকের মধ্যে ৭০টি ক্যানসার তৈরির উপাদানসহ প্রায় ৭০০০টি বিষাক্ত উপাদান রয়েছে, অথচ অবলিলায় তামাকের ব্যবহার চলছে। প্রতিদিন ধূমপানে আর্থিক ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন আমরা হচ্ছি, সেটা ভাবতে হবে।

প্রসঙ্গত, তামাক গাছ বামন জাতের স্বল্পজীবী উদ্ভিদ। পরিপূর্ণ তামাক গাছের পাতাকে বিশেষভাবে শুকিয়ে সেই পাতাকে উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তামাক পাতা দিয়ে সিগারেট, বিড়ি, চুরুট, জর্দা, গুল, নস্যি ও অন্যান্য উদ্দীপক দ্রব্য তৈরি করা হয়। তামাক মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তামাক ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এটি ক্যানসার ও হৃদরোগসহ নানা ধরনের কঠিন রোগ সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।