তুরস্কে ৪০ বছর লড়াইয়ের পর পিকেকের অস্ত্র সমর্পণের ঘোষণা - জনবার্তা
ঢাকা, বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তুরস্কে ৪০ বছর লড়াইয়ের পর পিকেকের অস্ত্র সমর্পণের ঘোষণা

জনবার্তা প্রতিবেদন
মার্চ ১, ২০২৫ ৫:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী পার্তিয়া কারকেরেন কুর্দিস্তানে বা কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেক) অবশেষ অস্ত্র সমর্পণে রাজি হয়েছে। এমনকি গোষ্ঠীর নেতারা পুরো আন্দোলনকে ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছেন। এর মধ্য দিয়ে তুরস্কে ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে চলা এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান হলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত নিষিদ্ধঘোষিত কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে তাদের কারাবন্দী নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের ঐতিহাসিক আহ্বানের পর অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। ওজালান এ সপ্তাহে গোষ্ঠীটির বিলুপ্তি চেয়ে তাদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

ওজালানের আহ্বানের পর এই প্রথম গোষ্ঠীটি ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল। পিকেকের নির্বাহী কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নেতা আপোর (ওজালান) শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান বাস্তবায়নের পথ সুগম করতে, আমরা আজ থেকে কার্যকর অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করছি।’

কমিটি আরও জানায়, ‘আমরা এই আহ্বানের বিষয়বস্তু পুরোপুরি গ্রহণ করছি এবং এটিকে অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করব। আমাদের কোনো বাহিনী আক্রমণের শিকার না হলে তারা সশস্ত্র কোনো পদক্ষেপ নেবে না।’

তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত পিকেকে ১৯৮৪ সাল থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে, যার লক্ষ্য ছিল কুর্দিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠা করা। তুরস্কের ৮ কোটি ৫০ লাখ জনগণের প্রায় ২০ শতাংশ কুর্দি।

এর আগে, ১৯৯৯ সালে ওজালান কারাবন্দী হওয়ার পর বহুবার সংঘাতের অবসান ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওজালানের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার কুর্দিপন্থী ডিইএম পার্টি একটি বার্তা প্রচার করে। এই বার্তায় বলা হয়, ওজালান পিকেকের অস্ত্র সমর্পণের পাশাপাশি একটি কংগ্রেস আহ্বানের মাধ্যমে সংগঠনের বিলুপ্তি ঘোষণা করার কথা বলেছেন।

আজ শনিবার পিকেকে জানিয়েছে, তারা ওজালানের আহ্বানের ভিত্তিতে একটি কংগ্রেস ডাকার জন্য প্রস্তুত, তবে এর জন্য ‘উপযুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে’ এবং কংগ্রেস সফল করার জন্য ওজালানকে ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি পরিচালনা ও নেতৃত্ব দিতে হবে।’

গোষ্ঠীটি আরও জানিয়েছে, ওজালানের কারাগারের পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে এবং তিনি যেন ‘শারীরিকভাবে স্বাধীনভাবে বসবাস ও কাজ করতে পারেন এবং তাঁর বন্ধুদেরসহ যে কারও সঙ্গে বাধাহীন যোগাযোগ রাখতে পারেন’ সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

এর আগে, ২০১৫ সালে শেষ দফার শান্তি আলোচনা হলেও তা ভেস্তে যায়। এরপর দীর্ঘদিন কোনো সংলাপ হয়নি। তবে গত অক্টোবরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের কট্টর জাতীয়তাবাদী মিত্ররা ওজালানের কাছে এক অপ্রত্যাশিত শান্তির বার্তা পাঠায়, যেখানে শর্ত ছিল তিনি যদি সহিংসতা পরিত্যাগ করেন, তবে নতুন আলোচনা হতে পারে।

এরদোয়ান এই উদ্যোগকে সমর্থন করলেও তাঁর সরকার বিরোধী পক্ষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে শত শত রাজনীতিক, কর্মী ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার এরদোয়ান ওজালানের এই আহ্বানকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, তুরস্ক এই আলোচনাকে সফল পরিণতিতে পৌঁছাতে ‘ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ’ করবে।

এরদোয়ান বলেন, ‘যখন সন্ত্রাস ও অস্ত্রের হুমকি দূর হবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণতন্ত্রে রাজনীতির পরিসর সম্প্রসারিত হবে।’

ওজালানের এই আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছে ইরাক। এটিকে তারা ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছে। ইরাকে পিকেকের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বাগদাদ ও আঙ্কারার মধ্যে উত্তেজনার কারণ হয়ে ছিল। পাশাপাশি এই অস্ত্রবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গোষ্ঠীটি ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থান করছে। এই অঞ্চলে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটিও রয়েছে এবং দেশটি নিয়মিতভাবে কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে স্থল ও বিমান হামলা পরিচালনা করে।