প্রথম পর্বের তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সেখানে ভারতের বিপক্ষে জয়টা ছিল ৩-১ ব্যবধানে। এতে চলমান অনূর্ধ্ব-১৬ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে নামার আগে পরিসংখ্যান বিচারে এগিয়েই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের একদম শুরুতেই ১-০ গোলে পিছিয়ে পরে টাইগ্রেসরা। পিছিয়ে পড়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফিরলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে যেখানে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা উল্লাসে মাতে টাইগ্রেসরা।
টাইব্রেকারে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। ভারতের পাঁচ শটের মধ্যে তিনটি তিনি সেভ করেন। বিশেষ করে ভারতের শেষ শট তিনি সেভ করায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাস করতে পেরেছে।
টাইব্রেকারের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের ভালো হয়নি। দলের হয়ে প্রথম শট নেওয়া সুরভী আকন্দ প্রীতি মিস করেন। তার শট ঠেকিয়ে দেয় ভারতের গোলরক্ষক। টাইব্রেকারের জন্যই ভারতীয় কোচ ম্যাচ শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে গোলরক্ষক পরিবর্তন করেন। ভারত প্রথম শটে গোল করলে বংলাদেশ পিছিয়ে পড়ে।
ভারতের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শট টানা সেভ করে বাংলাদেশকে ম্যাচে রাখেন ইয়ারজান বেগম। পক্ষান্তরে মারিয়াম ও থুইনি মারমা গোল করলে বাংলাদেশ ২-১ এর লিড পায়। ভারত চতুর্থ শটে গোল করলে স্কোরলাইনে আবার সমতা হয়। বাংলাদেশের পঞ্চম শটে সাথী মুন্ডা গোল করেন। ভারতকে খেলায় টিকে থাকতে হলে পঞ্চম শটে গোল করতেই হতো।বাংলাদেশের গোলরক্ষক শেষ শট সেভ করায় ৩-২ স্কোরলাইনে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
এদিন নেপালের কাঠমান্ডুতে ম্যাচের বয়স তখন সবে চার মিনিট। মাঝমাঠ থেকে অতর্কিত এক আক্রমণে বল পেয়ে যান ভারতীয় ফুটবলার আনুশকা কুমারিয়া। শুরুতেই আনমার্কড থাকা আনুশকাকে পেছন থেকে বাংলাদেশি দুই ডিফেন্ডার থামানোর চেষ্টা করেন। তবে দ্রতগতিতে দুজনকে ছিটকে বাম পায়ের শটে বল জানলে পাঠান। তাতে ১-০ গোলের লিড নেয় ভারত।
এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। টানা কয়েকটি আক্রমণ সাজায়। প্রথম পাঁচ মিনিটে এলোমেলো থাকলেও পরের পাঁচ মিনিটে দারুণ কিছু আক্রমণ তৈরি করেও ফিনিশিং দিতে পারেনি বাঘিনীরা। ফলে বেশ কিছু আক্রমণ করলেও গোল পেতে ব্যর্থ হয় তারা।
প্রথমার্ধের বাকিটা সময় দুদলই চেয়েছে গোল করতে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে ভারতের গোলদাতা আনুশকা বাংলাদেশের কয়েকজনকে কাটিয়ে ভালো সম্ভাবনা তৈরি করলেও সেই যাত্রায় রক্ষা পায় লাল-সবুজের দল। ম্যাচের ৪৩ মিনিটে কর্নার থেকে গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
গত মাসে ঢাকায় কমলাপুরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ও ভারত যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ঐ ম্যাচেও নির্ধারিত সময়ে স্কোরলাইন ১-১ ছিল। টাইব্রেকারে দুই দলই ১১ গোল করে। পরবর্তীতে আকস্মিকভাবে নিয়ম বর্হিভূতভাবে ম্যাচ কমিশনার টস করেন। টসে ভারত জিতে উল্লাস করে। অন্য দিকে বাংলাদেশ আপত্তি জানায়।পরবর্তীতে সাফ যুগ্ম শিরোপা ঘোষণা করে।

