মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ চলছে। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল দুই দিনের জন্য ঢাকায় এসেছিলেন। দেশটির একটি সামরিক বিমানে শনিবার সন্ধ্যায় দুই কর্মকর্তাসহ অজিত দোভাল ঢাকায় পৌঁছান। পরে রোববার বিকেলে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
ভারতীয় দুটি সংবাদপত্র বলেছে, মিয়ানমারের সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সেখানকার সীমান্তরক্ষীদের লড়াইয়ের কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে কথা বলতে অজিত দোভাল ঢাকায় এসেছিলেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিরাপত্তা ইস্যুতে আলাপ করতেই বাংলাদেশে এসেছিলেন অজিত দোভাল। আলোচনায় ছিল মিয়ানমার সীমান্ত ইস্যু।
আজ মঙ্গলবার তিনদিনের ভারত সফরে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের। এর আগে বাংলাদেশে এসে ঘুরে গেলেন দোভাল।
মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণের মুখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির শতাধিক সদস্য অস্ত্রসহ বাংলাদেশের বান্দরবানে পালিয়ে এসেছেন। তাদের নিরস্ত্র করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পালিয়ে আসা বিজিপি সদস্যদের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকার যোগাযোগ করেছে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এছাড়া আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার জাতীয় সংসদকে জানান, মিয়ানমার সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবিকে ধৈর্য ধরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন।
চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ ও লাওসের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত আছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র লাওস ছাড়া সবগুলো দেশের সঙ্গে সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত স্থিতিশীল ও শান্ত রাখার ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের অন্তত ৭০০ সীমান্তরক্ষী গত কয়েক সপ্তাহে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।



