সর্দি-কাশির মৌসুমে ইমিউনিটি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায় - জনবার্তা
ঢাকা, সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সর্দি-কাশির মৌসুমে ইমিউনিটি বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়

জনবার্তা প্রতিবেদন
নভেম্বর ৩, ২০২৫ ২:৩০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফেসবুকের পাতায় ‘নভেম্বর রেইন’ লিখে বৃষ্টি বিলাস করছেন হয়তো। কিন্তু উত্তরের হাওয়া যে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলা শুরু করেছে, সেই খেয়াল আছে? ঠান্ডা বাতাস আর রোদের লড়াই চলমান থাকলেও মৌসুমি আবহাওয়ায় অসুস্থ হচ্ছেন অনেকেই। ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছেন সবাই। এমন পরিস্থিতি ইউমিনিটি বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সর্দি, কাশি বা জ্বর থেকে বাঁচতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার খেতে পারেন। সেসঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম আর ঘুমও জরুরি। চলুন শীতের আগেই শরীরকে কীভাবে রোগের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করবেন তা জেনে নিই-

খাবার ও পানীয়
গরম পানি:
গরম পানির মতো সহজ আর কার্যকরী দাওয়াই কমই আছে। এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ লবণ মেশান। এই পানি দিয়ে গার্গল করুন। গলা ব্যথা কমবে। কফ উপশম হবে।

ভেষজ চা:
ঠান্ডা লাগার লক্ষণ উপশমে খেতে পারেন ভেষজ চা। আদা, হলুদ, বা তুলসী দিয়ে তৈরি চা পান করুন। এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

মধু ও লেবু:
গরম পানিতে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। এতে উপকার পাবেন। রাতে ঘুমানোর আগে গরম দুধে মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।

রসুন ও আদা:
রসুন আর আদা দুটো উপাদানই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। গরম পানির সঙ্গে আদার রস মিশিয়ে পান করতে পারেন।

স্যুপ:
গরম স্যুপ গলাব্যথা কমাতে এবং শরীরকে আরাম দিতে সাহায্য করে। শীতকালীন সবজি আর মুরগি মাংস দিয়ে স্যুপ রান্না করুন। এটি দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়।

জীবনযাত্রার অভ্যাস
পর্যাপ্ত বিশ্রাম:
শরীরকে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম অপরিহার্য। দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন। অতিরিক্ত স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুন।

হাইড্রেটেড থাকা:
শরীরকে সচল রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করা উচিত। অনেকে শীত এলে পানি পানের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন
মিষ্টি:
সর্দি-কাশির সময় মিষ্টি খেলে শরীরের ক্ষতি হয় বেশি। কেননা এসময় মিষ্টি খেলে দেহে প্রদাহ বাড়ে। কমে যায় ইমিউনিটি। দেহে প্রভাব বিস্তার করে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া। সর্দি, কাশি, জ্বর সারতেও বেশি সময় লেগে যায়। তাই মিষ্টিজাতীয় খাবার যত কম খাবেন ততই মঙ্গল।

কফি:
ঠান্ডা লাগলে গরম কফিতে চুমুক দিতে অনেকেরই ভালো লাগে। কিন্তু কফিতে থাকা ক্যাফিন নামক উপাদান শরীরের প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়। তাই কফি কম পান করুন।

এছাড়া তৈলাক্ত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণ দেওয়া খাবার ইমিউনিটি দুর্বল করে দেয়। তাই এসব না খেয়ে মৌসুমি ফল, শাক সবজি খান। সেসঙ্গে রোজ কিছুটা সময় শরীরচর্চা করুন, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। সুস্থ থাকা সহজ হবে।